kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

আজ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে থাকছে না দুই দল

নির্বাচনী ঐক্যে ভাঙছে বাম গণতান্ত্রিক জোট

বাম জোটের শীর্ষ নেতারা বলছেন, একসঙ্গে দুই জোটে থাকার সুযোগ নেই। এটি হবে অনৈতিক কাজ। ফলে ওই দুই দলকে হয় বাম গণতান্ত্রিক জোটে থাকতে হবে, না হয় বাম জোট ছেড়ে নতুন জোটে যেতে হবে

নিখিল ভদ্র   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী নতুন জোট গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৩ মে এক বৈঠকে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ নামের এই জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। কিন্তু সম্ভাব্য ওই জোটকে কেন্দ্র করে বাম গণতান্ত্রিক জোটে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আজ ১৭ মে বাম জোটের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না জোটের দুই শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সামনে রেখে কয়েকটি দল মিলে একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যে প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন ছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ জাসদ, গণফোরাম, ন্যাশনাল পিপলস লীগ, গণ অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ সুধীসমাজের ব্যক্তিরা।

নতুন জোট গঠনের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, শাসনব্যবস্থাকে ‘গ্রহণযোগ্য করা’ সর্বোপরি আওয়ামী লীগ সরকারের ‘পতন ঘটানো’র জন্য স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক মোর্চা গঠন করা হচ্ছে। দেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি চাইলে তাদেরও এই রাজনৈতিক মোর্চায় স্বাগত জানানো হবে। আগামী ২৩ মে এক বৈঠকে নতুন এই জোট গঠনের চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

তবে তার আগেই দেশের বামপন্থী দলগুলোর অন্যতম জোট বাম গণতান্ত্রিক জোটে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে দুটি দলের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

বাম জোট সূত্রে জানা যায়, আজ ১৭ মে সয়াবিন তেলসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বাম জোট। এই কর্মসূচিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এর আগে গত ৯ মে বাম জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির কাছে নতুন জোটে তাঁদের অবস্থানের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বাম গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে একত্রিত করে এই আন্দোলন জোরদারের চেষ্টা চলছে। এখন তারা যদি নতুন জোটে যায় তাহলে আপত্তি নেই। তবে একসঙ্গে দুই জোটে থাকার সুযোগ নেই। ’

নতুন জোট নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন যে রাজনৈতিক মঞ্চ হয়েছে, সেটি বাম জোটের বিকল্প কোনো শক্তি নয়। এটি একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ। এখন সেটি যদি কোনো রাজনৈতিক জোটে রূপ নেয়, তাহলে আমরা নিজেরাই বাম জোটের সদস্য পদ স্থগিত বা বাতিল করে দেব। ’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ‘বাম ঐক্য না বৃহত্তর ঐক্য’—এ নিয়ে বাম জোটে মতপার্থক্য আছে। তবে গণসংহতি আন্দোলন বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার পক্ষে। ”



সাতদিনের সেরা