kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া

চেকপোস্ট বন্ধ, অনুপ্রবেশ বাড়ছে

♦ চোরাকারবারিরা সক্রিয়
♦ এক বছরে ৩৯ রোহিঙ্গা আটক
♦ অনুপ্রবেশরোধে বিজিবির জরুরি সভা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর চেকপোস্ট দিয়ে বৈধভাবে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আলীনগর-মুড়াইছড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বেড়েছে।

সরেজমিনে কর্মধা ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রাম ঘুরে জানা যায়, ১৮৪২-১৮৫১ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য আসছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ। এই কাজে সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিরা বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে শিকড়িয়া সীমান্তের ১৮৪৬ নম্বর সীমানা পিলারের ভারতের পাহাড়ি সেগুনটিলা এলাকা দিয়ে চোরাচালান ও পাচারকারীরা বেশি সক্রিয়। পাচারকারীরা মাদক ও অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীদের স্থানীয় রবিরবাজার দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছে।

অনুসন্ধান ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০-১৫ জন চিহ্নিত চোরাকারবারি ও দালাল এসব অবৈধ কাজে জড়িত। এরা কৌশলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা এবং ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দায়িত্ব বদলের সময় কাঁটাতারের ওপর কাঠ দিয়ে উভয় পাশে মই লাগিয়ে মানুষ পারাপার করায়। একই পদ্ধতিতে তারা গরুসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য আনে। এ জন্য তারা স্থানীয় আশপাশের মানুষের কাছ থেকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা ঘুষ নিলেও রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা নেয়। এ ছাড়া সীমান্ত পার করার সময় তরুণীদের যৌন নির্যাতনও করা হয়।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, শিকড়িয়া গ্রামের আব্দুস সত্তারের ছেলে কালাম (৩৩), সিদ্দেক আলীর ছেলে আরজদ (৩০), গৌছ আলীর ছেলে মাছুম (২৬), আমুলী গ্রামের সুমন (৩৪), জসিম, আশিক, আলীনগর গ্রামের আক্তার, জায়েদ, ধলিয়া গ্রামের আহাদ আলী, শামীম, জুনেদ, তাজুল, দশটেকি গ্রামের জসিম চোরাকারবারে জড়িত। এর মধ্যে কালাম, সুমন ও জসিম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তালিকাভুক্ত চোরাকারবারি।

এক বছরে দুই দফায় আটক ৩৯ জন রোহিঙ্গা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে স্বীকার করেছে, টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে ভারত থেকে এই সীমান্ত দিয়ে তারা অনুপ্রবেশ করেছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৪৬ বিজিবির (শ্রীমঙ্গল) অধিনায়ক মো. মিজানুর রহমান শিকদার গত শুক্রবার আলীনগর ও মুড়াইছড়া ক্যাম্প এলাকায় পৃথক জরুরি সভা করেন। এ সময় তিনি বিজিবির স্থানীয় ক্যাম্পের সদস্যরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন কি না এবং রোহিঙ্গা ও চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতা চান।

চোরাকারবারি দলের অন্যতম সদস্য সুমন বলেন, ‘আমার জীবনে রোহিঙ্গা আনিনি। তবে টুকটাক বিড়ি আনি। রোহিঙ্গা পাচারের সঙ্গে পশ্চিম গণকিয়া এলাকার শারমিন, তাঁর ভাই মনাই ও গণকিয়া গ্রামের তোফেল জড়িত। ১৮৪৬ নম্বর সীমানা পিলারের সেগুনটিলার পূর্ব পাশ দিয়ে সকাল ও সন্ধ্যায় রোহিঙ্গা প্রবেশ করে। ’

চোরাকারবারি দলের আরেক সদস্য কালাম বলেন, ‘আমি এসব কারবার ছেড়ে দিয়েছি। ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা এনেছে শারমিন, তোফেল, আনসার ও আরজরা। ’ রোহিঙ্গা পাচারের সঙ্গে জড়িত শারমিনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ’

বিজিবি-৪৬ ব্যাটালিয়নের (শ্রীমঙ্গল) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিজানুর রহমান শিকদার বলেন, ‘বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয়দের চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে বলেছি। সন্দেহমূলক যেসব স্থান রয়েছে, সেখানে টহল বাড়ানো হয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা