kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

চাঁদা দিয়ে চলছে অবৈধ লেগুনা

♦ মালিক সমিতির নামে মাসে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়
♦ চাঁদার টাকা যায় পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাদের কাছে

আসাদুজ্জামান নূর, সিদ্ধিরগঞ্জ   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাঁদা দিয়ে চলছে অবৈধ লেগুনা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় একটি লেগুনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জে চলছে সরকার নিষিদ্ধ অবৈধ লেগুনা। চিটাগাং রোড লেগুনা মালিক সমিতির নামে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় চাঁদাবাজরা। এ চাঁদার টাকা থানা ও হাইওয়ে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন লেগুনা মালিক ও চালকরা।

গতকাল রবিবার সকালে শিমরাইল মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিমরাইল থেকে নারায়ণগঞ্জ সড়কের মোড়ে মহাসড়ক দখল করে এলোপাতাড়ি লেগুনা থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছেন চালকরা।

বিজ্ঞাপন

এতে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এসব অবৈধ লেগুনার কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। বেশির ভাগ লেগুনাচালক ও হেলপার অপ্রাপ্তবয়স্ক। নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। এ মহাসড়ক দিয়ে চলা বেশির ভাগ লেগুনার অবস্থাও বেহাল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় থেকে সাইনবোর্ড হয়ে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত দুই শতাধিক লেগুনা প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। বেশির ভাগ পরিবহনের নেই কোনো রুট পারমিট (অনুমতি) ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। এক প্রকার মাসোহারা ও চাঁদা দিয়েই দীর্ঘদিন যাবৎ এ সড়কে চলছে এসব লেগুনা। যাত্রাবাড়ী এলাকায় পলাশ মিয়া, শিমরাইল এলাকায় হাসানুজ্জামান পরশ, আতিকুর রহমান আতিকসহ একটি চক্র চিটাগাং রোড লেগুনা মালিক সমিতির নামে প্রতিদিন দুই শতাধিক লেগুনা থেকে ৪৫০ টাকা করে প্রায় এক লাখ করে মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা চাঁদা তুলছেন।

এ ছাড়া শিমরাইল এলাকায় আব্দুর রহমান, মনির হোসেন ও শহিদ মিয়া প্রতি গাড়ি থেকে ৩০ টাকা এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় আরিফ মোল্লা, সাঈদ মিয়া, কাউসার মিয়া, অনিক হোসেন, শাহআলম মিয়া ও নয়ন মিয়াসহ কয়েকজন প্রতি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হাসানুজ্জামান পরশ চিটাগাং রোড লেগুনা মালিক সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিয়ে হীরাঝিল এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিক জমি, পাঁচ থেকে সাতটি লেগুনাসহ কয়েক বছরে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অপরদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ আজিবপুর বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান আতিক দীর্ঘদিন যাবৎ লেগুনা থেকে চাঁদা আদায় করে হয়েছেন বাড়ি ও গাড়ির মালিক। রয়েছে সাত-আটটি লেগুনা।

শিমরাইল এলাকায় চলাচলরত লেগুনাচালক বরকত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাধ্য হয়েই প্রতিদিন নির্ধারিত হারে চাঁদা দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। চাঁদা না দিলে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানিসহ গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া লাইনে নতুন গাড়ি নামাতে হলে এককালীন হিসাবে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। ’

রবিবার সকালে শিমরাইল এলাকায় লেগুনা পরিবহনের লাইনম্যান পরিচয়ে চাঁদা আদায়কালে কথা হয় আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা ৩০ টাকা নয়, ১০ টাকা করে প্রতি লেগুনা থেকে চাঁদা আদায় করি। এসব চাঁদার টাকা দিয়ে বৌ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালাই। ’

চাঁদা কেন আদায় করছেন? এটা তো অবৈধ। জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, ‘ভাই অসুস্থ মানুষ। পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমে চাঁদা তুলছি। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসানুজ্জামান পরশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই। এই সড়কে আমার কয়েকটি লেগুনা রয়েছে। এসব লেগুনা থেকে ভাড়া উত্তোলন করে সংসার চালাই। সমিতির নামে যে টাকা ওঠাই তা থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে দিতে হয়। ’

অপরদিকে আতিকুর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।  

এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আহম্মেদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মহাসড়কে লেগুনা চলাচল নিষিদ্ধ। যেগুলো চলাচল করছে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত রেকারিং ও জরিমানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনোভাবেই এসব নিষিদ্ধ পরিবহন মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে না। ’

র‌্যাব-১১-এর কম্পানি কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান, এরই মধ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। লেগুনা থেকে যেসব চাঁদাবাজ অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলন করছে, খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে  অভিযান চালানো হবে।



সাতদিনের সেরা