kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

পশ্চিমাঞ্চল রেল

চালু হচ্ছে জোড়া ম্যাংগো ট্রেন

♦ ২৫ মে থেকে ট্রেনের এই সেবা চালু হতে পারে
♦ প্রতি কেজি আম পরিবহনে খরচ সর্বোচ্চ ১.৩০ টাকা
♦ ছোট ব্যবসায়ীদের মতে, এই ট্রেনে সাশ্রয় হয়
♦ বড় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রেনে আম নিতে লোকসান হয়

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অন্য বছরের মতো এবারও রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চালু হচ্ছে ‘ম্যাংগো স্পেশাল’ ট্রেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মে মাসের শেষ দিকে আমের ভরা মৌসুম। তখন এই ট্রেন চালু করা হবে।

ব্যবসায়ী ও আম চাষিরা বলছেন, ছোট ব্যবসায়ীরা এই ট্রেন চললে সুবিধা পান।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বড় ব্যবসায়ীদের ট্রেনে আম পরিবহন করতে গিয়ে লোকসান হয়। বাগান থেকে আম ট্রেন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এবং ট্রেন থেকে নামিয়ে আবার নির্দিষ্ট গন্তব্যে আম পৌঁছাতে গিয়ে বাড়তি খরচ হয়। বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয়। এ জন্য তাঁরা ট্রেনে আম পরিবহনে ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

রাজশাহী স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম জানান, ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর স্টেশন থেকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করে। রহনপুর স্টেশন থেকে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে এক টাকা ৩০ পয়সা। আর রাজশাহী স্টেশন থেকে খরচ পড়ে এক টাকা ১৭ পয়সা। এই আম নামানো যায় টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, মৌচাক, জয়দেবপুর, টঙ্গী, বিমানবন্দর ও কমলাপুর স্টেশনে। অন্যদিকে রোহনপুর, আমনুরা, সিতলাই, রাজশাহী, সরদহ রোড, আড়ানী, আব্দুলপুর স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ম্যাংগো ট্রেনে আম পাঠানো যায়।   

রেলওয়ে সূত্র মতে, কয়েক বছর ধরে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আমের মৌসুমে এক জোড়া ট্রেন চলাচল করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা রুটে এই এক জোড়া ট্রেন চলাচল করে সীমিত সময়ের জন্য, যা কৃষি পণ্যবাহী (পার্সেল) হিসেবে চলাচল করে। ট্রেন দুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে। ১ ও ২ নামের ট্রেন দুটি সপ্তাহে সাত দিনই এই রুটে আম-সবজিসহ বৈধ পণ্যসামগ্রী নিয়ে যাতায়াত করে। প্রতি কেজি আম পরিবহনের জন্য সর্বনিম্ন এক টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ এক টাকা ৩০ পয়সা ভাড়া আদায় করে রেল। এবারও একই হারে ভাড়া নির্ধারণ করে ট্রেন দুটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী ২৫ মের পরে আমের বেচাকেনা জোরেশোরে শুরু হবে। তখন আম পরিবহনও বাড়বে। সেই সময়ের দিকে এক সপ্তাহের জন্য ট্রেনটি চালু করা হবে। ’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে একটি ট্রাকে অন্তত ৪৫০ ক্যারেট (প্রতি ক্যারেটে ২২ কেজি) আম পরিবহন করা যায়। রাজশাহী-ঢাকা এক ট্রাক আম পরিবহনে ভাড়া আদায় করা হয় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর আম সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছে যায়। কিন্তু এক ট্রাক আম ট্রেনে করে পরিবহন করতে ব্যবসায়ীদের তিন দফা খরচ হয়। এর মধ্যে বাগান বা বাজার থেকে প্যাক করে স্টেশনে আনতে হয়। এতে গাড়িভাড়া ও শ্রমিক খরচ দিতে হয়। এরপর স্টেশনে নামানো-ওঠানোর জন্য আলাদা খরচ করতে হয়। সেখান থেকে ঢাকায় গিয়ে আবার গাড়িতে তোলার জন্য খরচ করতে হয়। এরপর ঢাকার বিভিন্ন বাজারে পৌঁছাতে আলাদা গাড়ি ভাড়া করতে হয়। এতে এক ট্রাক আম ট্রেনে পৌঁছাতে তিন দফায় ট্রেনভাড়াসহ খরচ পড়ে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা। এর বাইরেও রয়েছে নানা ঝক্কি-ঝামেলা। ঢাকায় ট্রেনটি পৌঁছাতে পৌঁছাতে সময় নেয় সকাল ৭টা-৮টা। ততক্ষণে আড়তে আম কেনাবেচা শুরু হয়। কিন্তু ট্রাকে করে সরাসরি আম পরিবহন করলে ভোরে আম পৌঁছে যায়।

গতকাল রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারে আম কিনতে আসা ঢাকার পাইকার মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনে আম পরিবহন করতে কমপক্ষে তিন দফায় খরচ করতে হবে। বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হয়। সময়মতো আম আড়তে পৌঁছায় না। তাই বড় ব্যবসায়ীরা চান না ট্রেনে আম পরিবহন করতে। ’

এদিকে দুর্গাপুরের আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি মোবাইল ফোনে আমের অর্ডার নিই। সেই আম কুরিয়ারে বা ট্রেনে করে পাঠাই। এতে কুরিয়ারে এক মণ আম পাঠাতে কমপক্ষে ৪০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু ট্রেনে পাঠাতে খরচ হয় মাত্র ১০০ টাকার মতো। ছোট ও  মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেন অনেক সুবিধাজনক, খরচও কম। ’



সাতদিনের সেরা