kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

তিস্তা কনভেনশন-২০২২

তিস্তাপারের মানুষকে রক্ষায় বাজেটে বরাদ্দ দাবি

♦ মাত্র সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে
♦ পানি বেড়ে গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের মধ্যে যেন ঈদের আনন্দ লাগে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘উত্তরের তিস্তা নদীকেন্দ্রিক জনপদের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও জীবনমান উন্নয়নে আসছে বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। চীন বা ভারত নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে যেভাবে পদ্মা সেতু করেছেন, ঠিক সেভাবেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দেশীয় অর্থে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করুন। ’ গতকাল শনিবার বিকেলে লালমনিরহাটে ‘তিস্তা কনভেনশন-২০২২’-এ এই দাবি করা হয়েছে।

‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’ লালমনিরহাট তিস্তা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তিস্তাতীরবর্তী লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বাসিন্দাদের নিয়ে আয়োজিত এই কনভেনশনের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

কনভেনশনে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের  কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, নদীভাঙন আর খরায় এই অঞ্চলের কৃষি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিস্তা নদীপারের মানুষের দুর্ভোগ আর আহাজারির সীমা থাকে না। এই ক্ষতির হাত থেকে বিশাল জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। ’

সংগ্রাম পরিষদের লালমনিরহাট জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম কানুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাফিয়ার রহমান ও স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য তুহিন ওয়াদুদ প্রমুখ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে আয়োজিত কনভেনশনে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকারও বেশি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। কিন্তু রংপুরের বিভাগে কোনো প্রকল্প নেই। মাত্র সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ এর সঙ্গে এই রংপুর অঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত।  

বক্তারা আরো বলেন, প্রতিবছরে শত শত মানুষ তিস্তা ভাঙনের মুখে পড়ে নিঃস্ব হয়। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কয়েক বস্তা জিও ব্যাগ ফেলে শত শত কোটি টাকা লোপাট করেন। পানি বেড়ে গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের মধ্যে যেন ঈদের আনন্দ লাগে। আর তিস্তাপারের মানুষজন হাতে থালা নিয়ে ভিক্ষা করে। এভাবে আর চলতে পারে না। তাই আগামী বাজেটেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে। যদি এটি করা না হয় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বক্তারা বলেন, তিস্তা খনন না হওয়ার কারণে এবার মাত্র তিন হাজার কিউসেক পানির ভার সইতে পারছে না। সে কারণে অসময়ে বন্যা হয়েছে। বর্ষাকালে এই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। তাই বিজ্ঞানসম্মতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কোনো বিকল্প নেই।

বক্তারা দাবি তোলেন, সারা বছর তিস্তায় পানি রাখতে ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি সই নিশ্চিত করার বিষয়টি আর কোনোভাবেই বিলম্ব করা যাবে না। তিস্তার ভাঙন, বন্যা, খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থসংরক্ষণ, ভাঙনের শিকার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন, তিস্তার শাখা-উপশাখা ও উপনদীগুলোতে আগের মতো সংযোগ স্থাপন, দখল ও দূষণমুক্ত করে জলাধার নির্মাণ এবং দুই পাশে শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান করতে হবে।

কনভেনশনে বলা হয়, রংপুর অঞ্চলের পাঁচজন মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিস্তা নিয়ে তাঁরা কোনো কথা বলেন না।



সাতদিনের সেরা