kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

সম্পাদক পরিষদের আলোচনাসভা

গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে গণতন্ত্রের বিকাশ অসম্ভব

একের পর এক আইন করে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে -মাহফুজ আনাম, সভাপতি, সম্পাদক পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদের আলোচনাসভায় আলোচকরা বলেছেন, গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব নয়। এটা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। তাই সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস : ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কেন এত আইন? আদালত অবমাননা আইন, অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, আইসিটি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যমকর্মী আইনসহ একের পর এক আইন করে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে ফেলা হচ্ছে। ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ডিজিটাল অপরাধের থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কয়েক গুণ বেশি অপব্যবহার করা হয়েছে। আদালতের রায় পাওয়ার আগেই এই আইনে সাংবাদিকদের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে আইনি বাধাগুলো চিহ্নিত করতে মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ডিজিটাল বাস্তবতায় যেমন অনেক সুবিধা হয়েছে, তেমনি অনেক চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ অন্যান্য আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে। আবার গণমাধ্যমের বিকাশে নেতৃত্বের দক্ষতা ও মেধার অভাব রয়েছে। ফলে গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটছে না। এই সমস্যা এককভাবে সমাধান সম্ভব নয়। গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে মালিক-সম্পাদক ও সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আইনি বাধাগুলো চিহ্নিত করতে মালিক-সম্পাদকসহ সব সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নতুন আইন ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মতো পুরনো আইন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। আবার কোনো আইন না থাকায় টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটছে না। তাই আইনি জটিলতাগুলো চিহ্নিত করতে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।

সব সরকারের আমলেই সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়নি বলে দাবি করেন সম্পাদক পরিষদের সহসভাপতি ও দ্য নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির।   তিনি বলেন, অতীতের মতো এখনো মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। রাষ্ট্রযন্ত্র যাঁদের দখলে থাকে তাঁরা আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার করেন। অথচ স্বাধীন সাংবাদিকতা সবার জন্য প্রয়োজন। মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্পাদক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যেখানে মামলা হচ্ছে, সাংবাদিকরা গ্রেপ্তার হচ্ছে, সেখানে আর নজরদারির কি আছে? সরকার বদলায়, কিন্তু আইনের প্রয়োগ বদলায় না। আর সাংবাদিকদের বিভাজনের কারণে সরকার সুযোগ নেয়। ভয় থেকে সাংবাদিকতাকে মুক্ত করতে হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিএফইউজের একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় সাংবাদিকরা নিজের ইচ্ছামতো লিখতে পারে না। এ জন্য বিদ্যমান আইনের সংশোধনীর পাশাপাশি আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। নবম ওয়েজ বোর্ড হলেও তা কার্যকর হয়নি। সেটা কার্যকর করতে হবে। গণমাধ্যমকর্মী আইন পাসের আগে সংশোধন করতে হবে।

সারা দেশের সাংবাদিকরা সরকারের নজরদারিতে আছে বলে উল্লেখ করেন বিএফইউজের আরেক অংশের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন বাড়ছে। গত ১৩ বছরে ৪৫ জন সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার সূচকে এ বছর বাংলাদেশ ৬১ ধাপ নিচে নেমেছে। সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় আরো অংশ নেন সম্পাদক পরিষদের সহসভাপতি ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, আজকের পত্রিকার সম্পাদক গোলাম রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী ও আরেক অংশের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সাবেক নারীবিষয়ক সম্পাদক রীতা নাহার এবং টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদী। সভা সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।



সাতদিনের সেরা