kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

লক্ষ্মীপুর

সিঙ্গাপুরের কথা বলে পাঠানো হলো চট্টগ্রামে

♦ আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী জুয়েলের বাবা শহীজল মাঝি
♦ অভিযুক্ত আলেয়া বেগম আত্মগোপনে রয়েছেন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের বটগাছতলা এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল (২৫)। তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার কথা বলে ফুফু আলেয়া বেগম প্রতারণা করে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সিঙ্গাপুরের কথা বলে জুয়েলের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা-চট্টগ্রামের বিমান টিকিট। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন অভিযুক্ত আলেয়া বেগম, তাঁর ছেলে আওলাদ হোসেনসহ অন্য স্বজনরা।

বিজ্ঞাপন

আলেয়া, তাঁর ছেলে আওলাদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ৯ মে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী জুয়েলের বাবা শহীজল মাঝি। গতকাল শনিবার বাদীর আইনজীবী মুনসুর আহমেদ জানান, মামলটি তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

অভিযুক্ত আলেয়া বেগম ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুদবা গ্রামের পল্লী পশুচিকিৎসক বশির আহমেদের স্ত্রী। অন্য অভিযুক্তরা হলেন আওলাদ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার, শ্যালক সানী ও দুলাভাই শামীম হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৩০ বছর পর সম্প্রতি ভাই শহীজলের বাড়িতে বেড়াতে আসেন অভিযুক্ত আলেয়া বেগম। কিছুদিন পর তাঁর ছেলে আওলাদও বেড়াতে আসেন। স্ত্রীর সঙ্গে আওলাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে বলে জানতে পারেন শহীজল। বোনের আবদারে লক্ষ্মীপুরেই আওলাদকে দ্বিতীয় বিয়ে করান মামা শহীজল। এক পর্যায়ে আলেয়া জানান, আওলাদের প্রথম শ্বশুর তাঁকে সিঙ্গাপুরের একটি ভিসা দিয়েছেন। দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁকে সিঙ্গাপুর যেতে হবে, না হলে ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। এ জন্য দ্বিতীয় শ্বশুরের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে দিতে হবে। টাকা নেওয়ার পরদিন সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে মামার বাড়ি থেকে বের হন আওলাদ। এক দিন পর অনলাইনের নম্বর দিয়ে ফোন করে সিঙ্গাপুর পৌঁছানোর কথা শহীজলকে জানান আওলাদ। এ সময় মামাতো ভাই জুয়েলকেও সিঙ্গাপুর নেওয়ার প্রস্তাব দেন আওলাদ। এ জন্য শহীজলের কাছে ১২ লাখ টাকা দাবি করেন আলেয়া। পরে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। এর মধ্যে শহীজলকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলেন এবং বাকি টাকা আলেয়া নিজে দেবেন বলে জানান। অনলাইন থেকে বিদেশি নম্বর দিয়ে প্রায়ই শহীজলকে ফোন করতেন আওলাদ। এক পর্যায়ে এনজিও এবং তিন মেয়ের স্বামীর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চার লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। গত ২৯ এপ্রিল ছেলে ও বোনকে নিয়ে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান শহীজল। সেখানে আলেয়ার কথা অনুযায়ী সানী নামের একজনকে চার লাখ টাকা দেন। টাকা পেয়ে একটি টিকিট জুয়েলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত বিমানে উঠতে বলেন সানী। বিমানবন্দরের দুটি গেট অতিক্রম করে আওলাদকে দেখতে পেয়ে চমকে যান জুয়েল। এরপর জুয়েলকে নিয়ে ফ্লাইটে ওঠেন আওলাদ। পরে ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে শামীম নামের একজন তাঁদের একটি হোটেলে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে জুয়েলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁদের নির্দেশনা মেনে চলতে বলেন।

ভুক্তভোগী মো. জুয়েল বলেন, ‘অস্ত্র ঠেকিয়ে আওলাদ ও শামীম আমার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলে। এ সময় সিঙ্গাপুরের পরিচয়পত্রের জন্য আরো দেড় লাখ টাকা দিতে বলে তারা। পরদিন সকালে অন্য এক ব্যক্তির ফোন থেকে বাবাকে কল করে আমি আসল ঘটনা জানাই। এরপর আমাকে বাসযোগে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় এনে তারা পালিয়ে যায়। ’

অভিযুক্ত আলেয়া বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।



সাতদিনের সেরা