kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানিসংকট

বোতলজাত পানিই ভরসা রোগীদের

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বোতলজাত পানিই ভরসা রোগীদের

বোতলজাত পানি সংগ্রহ করে খাচ্ছে রোগীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র পানিসংকটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে চিকিৎসা কার্যক্রম। এতে হাসপাতালে আসা রোগী, ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের অবহেলায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পানি সরবরাহ কাজের সরকারি টাকা তুলে নিয়ে গেলেও ওই প্রকল্প থেকে পানি পাচ্ছে না হাসপাতাল।

বিজ্ঞাপন

ফলে বোতলজাত পানি কিনে খাচ্ছেন রোগীরা।

পরিসংখ্যানবিদ সুকুমার ভট্টাচার্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ফকিরহাটের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ হাজার ৭৫৫ জন রোগী আবাসিক ও অনাবাসিক চিকিৎসা নিয়েছে। তীব্র গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এ ছাড়া প্রসূতি বিভাগ, শিশু, জেনারেল ও অন্য ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পানির অভাবে শৌচাগার ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পানির অভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখতে পারছেন না হাসপাতালের মেঝে, শৌচাগারসহ অন্যান্য স্থান। ফলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি জীবাণু ও সংক্রমণ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে পানিসংকট রয়েছে এখানে। দীর্ঘদিন থেকে একটি অগভীর নলকূপ থেকে মোটরের মাধ্যমে হাসপাতালে পানি সরবরাহ করা হয়। তবে সরবরাহকৃত পানির পাইপে মরিচা ও ময়লা জমে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

গত ২০২১ সালের এপ্রিলে গভীর নলকূপের মাধ্যমে নতুন পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কাজ শেষে হাসপাতালে হস্তান্তরের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে তা অকেজো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পানিসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এই পানি সরবরাহ প্রকল্পের ঠিকাদার মো. আল আমীন জানান, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী তিনি কাজ করেছেন। কিন্তু বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা থাকার জন্য এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. এনামূল কবির বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিভ্রাটের কারণে এ সমস্যা হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে আবার ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ্ মো. মহিবুল্লাহ্ বলেন, ‘পানিতে অধিক আয়রন থাকায় পাইপগুলো মরিচা ধরে আটকে গেছে। পুরো সিস্টেম পরিবর্তন না করলে স্থায়ী সমাধান হবে না বলে স্যানিটেশনের মিস্ত্রি জানিয়েছেন। ’



সাতদিনের সেরা