kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘নগরায়ণে বাংলাদেশ: আগামীর ভাবনা’

উন্নয়নে সমন্বয়ের মারাত্মক অভাব

ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতেই হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শহরের উন্নয়নে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক শামসুল হক। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে ১৮টি মন্ত্রণালয় ও ৩৭টি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে। তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে একটি রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার ১৫ দিন পর আরেকটি সংস্থা এসে তাতে বিদ্যুতের লাইন, পানির লাইন স্থাপন শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

নগর গবেষণা কেন্দ্রের ৫০তম প্রতিষ্ঠবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নগরায়ণে বাংলাদেশ: আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান মিলনায়তনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০০৯ সালে নয়া জাতীয় পরিকল্পনার যুগে প্রবেশ করেছে। তখন ৭২০ মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয় ছিল, এখন ২৮১৪ ডলার মাথাপিছু আয়। এতেই বোঝা যায়, দেশ কত এগিয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশ সোনালি যুগে রয়েছে। অথচ ২০০২ সাল থেকে দুবার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করাই হয়নি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নগর গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর উপলক্ষে অনুষ্ঠানে চারটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইগুলো হলো: চট্টগ্রাম মহানগর ভৌগোলিক সমীক্ষা, আমার ঢাকা আমাদের ঢাকা, পরিবেশ ভাবনা এবং পরিবেশ প্রতিবেশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে হয়তো দক্ষ পরিকল্পনাবিদ নেই। বিশেষ মহল ভালো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না। ঢাকাকেন্দ্রিক সব উন্নয়ন সমর্থন করা যায় না। এতে নানা সমস্যা তৈরি হয়। ঢাকা বিশ্বের সর্ব নিকৃষ্ট বসবাসযোগ্য শহর। ঢাকায় যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ। পরিবহন চলেই না। বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা চিন্তা করে বিনিয়োগ করা উচিত। ঢাকার মধ্যে মনোযোগ ও বিনিয়োগ কমাতে হবে। ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতেই হবে। ’

তিনি বলেন, ‘কলাবাগানের একটা মাঠ, এটার জন্যও অনেক বিশিষ্ট মানুষকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। আমি বলি, মাঠের মালিক যদি পুলিশও হয় তাতে কী! সেই মাঠে কি খেলা যাবে না! অথচ প্রধানমন্ত্রী না বলা পর্যন্ত সেই সমস্যার সমাধান হলো না। সব কিছু যদি প্রধানমন্ত্রীর সমাধান করতে হয় তাহলে তো এটা বড় সমস্যা। ’

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশ চালানোর মতো জ্ঞান আমাদের নেই। আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো হয়ে যাওয়ায় কী করব সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। আমাদের ঢাকায় যেখানে গাড়িই চলে না, সেখানে আমরা দামি গাড়ি কিনছি। হঠাৎ হঠাৎ করে আমরা মাথার ওপরে, মাটির নিচে ট্রেন বানাচ্ছি। কিন্তু কেন বানাচ্ছি? আমাদের পরিকল্পনাতেই ভুল আছে। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আমানত উল্লাহ খান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমাদের পরিকল্পনার চিন্তার পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের জনসংখ্যার সুবিধাগুলো আমরা নিচ্ছি না। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এমন বড় বড় অঞ্চল ধরে করিডরভিত্তিক উন্নতি করা দরকার। পরিকল্পনা নিয়ে ৫০ বছর ধরে আমি একই কথা শুনে আসতেছি। প্রথমে খুব জোর দিয়ে পরিকল্পনা করা হয়; পরে সেগুলো সেলফে উঠে যায়। আমাদের অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা বদলানোর সময় এসেছে। ’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আমাদের ঘরটা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখলেও শহরটাকে সুন্দর করে সাজাচ্ছি না। নাগরিক হিসেবে আমাদের অনেক দায়িত্ব আছে। রাজনীতির জায়গা থেকে শহরের জন্য অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছে; কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। শুধু ঢাকা নয়, আমাদের পুরো দেশ নিয়ে পরিকল্পনার সময় এসেছে। প্রতিটি উপজেলার জন্য মাস্টার প্ল্যান করা প্রয়োজন। ’

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, স্বাধীনতা-পরবর্তী পাঁচ দশকে বাংলাদেশের নগরায়ণে পরিবর্তন এসেছে সংখ্যাগত ও গুণগত দুই ভাবেই। এই সময়ে গড়ে বার্ষিক নগরায়ণ ঘটেছে প্রায় পাঁচ শতাংশ হারে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মোট নগরীয় জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৫০ লাখ। ২০২১ সালে অনুমান করা যায়, নগরে ৩৫ শতাংশ মানুষের বাস, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ছয় কোটি।



সাতদিনের সেরা