kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

বাগেরহাটের শরণখোলা

হস্তান্তরের আগেই ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

♦ বাঁধে ফাটলসহ দেখা দিয়েছে নদীভাঙন
♦ দুই কিলোমিটাজুড়ে ব্লকে ধস
♦ নিম্নমানের কাজের অভিযোগ
♦ বাঁধসংলগ্ন এলাকায় নদীশাসন দাবি স্থানীয়দের
♦ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নদীশাসনের ব্যাপারে আগেই প্রস্তাবনা পাঠানো আছে। প্রকল্প পাস হলে কাজ শুরু হবে -আশরাফুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী, উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের খুলনা অঞ্চল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হস্তান্তরের আগেই ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর সাউথখালী বাবলাতলা স্কুল থেকে গাবতলা আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত বাঁধের ব্লক এভাবেই সরে গেছে। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের শরণখোলায় হস্তান্তরের আগেই ঝুঁকির মুখে পড়েছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধ। বুধবার বিকেলে সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা পয়েন্টে বাঁধে ফাটল দেখতে পায় স্থানীয়রা। একই এলাকায় বাঁধের অন্য পাশে শুরু হয়েছে বলেশ্বর নদের ভয়াবহ ভাঙন। উত্তর সাউথখালী গ্রামের বাবলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গাবতলা আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার বাঁধের ব্লক ধসে গেছে।

বিজ্ঞাপন

অনেক স্থানের ব্লক সরে গিয়ে জিও ব্যাগ বেরিয়ে গেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বাঁধের নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। তা ছাড়া কাজ শেষ না হতেই ফাটল ও ভাঙন শুরু হওয়ায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কিত এলাকাবাসী।

২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প (সিইআইপি-১) গ্রহণ করে সরকার। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে শুরু হয় এই বাঁধ নির্মাণকাজ। এটি বাস্তবায়ন করছে সিএইচডাব্লিউই নামে একটি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। জুন মাসে বাঁধটি হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু এর আগেই বাঁধে ফাটল ধরেছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, বাঁধের ভেতর পাশে ২০ ফুট এলাকাজুড়ে ফাটল ধরেছে। সেখানে মাটি দিয়ে কোনোমতে মেরামত করা হয়েছে। বাঁধের একেবারে গোড়া থেকে মাটি কেটে সেই মাটিই আবার বাঁধে দেওয়া হয়েছে। অশনির প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় গোড়ার মাটি সরে গিয়ে এই ফাটলের সৃষ্টি হয়। ভারি বৃষ্টিপাত হলে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা রয়েছে সেখানে। ফাটলের ঠিক বিপরীত পাশে বলেশ্বর নদের ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন বাঁধের সিসি ব্লকের কাছাকাছি চলে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বলেশ্বর নদের তীরের সাউথাখালী ইউনিয়নের গাবতলা, বগী, রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর, চাল রায়েন্দা এবং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের শেষ সীমানার কুমারখালী ও ফাসিয়াতলার ঝুঁকিপূর্ণ ও ভাঙনপ্রবণ স্থানে নদীশাসন না করেই বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল বেড়িবাঁধের ভেতরে বালু দিয়ে ভরাট করে তার ওপর মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হামেদ সরদার (৫৮), আব্বাস বয়াতী (৪৫), আলমগীর খান (৩০) বলেন, শুধু নামেই টেকসই বাঁধ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি বালির বাঁধ। ভেতরে বালি দিয়ে ওপরে মাটি, তার ওপর ব্লক বসানো হয়েছে। যে কারণে সামান্য বৃষ্টির পানি ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে ফাটল ও ধসের সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘গাবতলা এলাকার বাঁধের ফাটল দেখে মানুষ ভয়ে আছে। তা ছাড়া নদীভাঙন বাঁধের কাছাকাছি চলে আসায় আমরা বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কিত। ’

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় সিডরে সাউথখালীতেই প্রায় ৮০০ মানুষ মারা গেছে। এতো মানুষের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া সেই বাঁধ এখন আবার ঝুঁকিতে। কাজের সর্বস্তরেই অনিয়ম হয়েছে। ’

সিইআইপি-১-এর সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. রাকিবুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘সম্ভবত ইঁদুরের গর্ত থেকে বৃষ্টির পানি ঢুকে সামান্য ফাটল দেখা দেয়। ফাটল স্থানটি মেরামত করা হয়েছে। ’

উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি-১) খুলনা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের কাছে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নদীশাসনের ব্যাপারে আগেই প্রস্তাবনা পাঠানো আছে। প্রকল্প পাস হলে কাজ শুরু হবে। ’



সাতদিনের সেরা