kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১১ প্রকল্প

বাস্তবায়নে ধীরগতি নিয়ে তিন সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ

নিখিল ভদ্র   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙন এলাকার মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেকে ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে এখনো ৮২.৭৯ শতাংশ কাজ বাকি। এই প্রকল্পের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান ১১টি প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই।

বিজ্ঞাপন

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রকল্পই শেষ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশে প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানছে। এতে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি বাড়ছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পগুলো নিয়ে সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পৃথক আলোচনা হয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে তিনটি কমিটিই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত কার্যপত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ ও ২০১৯ অর্থবছরে নেওয়া ১১টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে এই প্রকল্পের ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৬ সালে গৃহীত ৫৫৬ কোটি ছয় লাখ ৩১১ টাকার এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ‘আরবান রেজিল্যান্স প্রজেক্ট’-এর মেয়াদ গত এপ্রিলে শেষ হলেও ওই প্রকল্পের কাজ এখনো ২০ শতাংশ বাকি রয়েছে।

কার্যপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ‘জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পটি। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নেওয়া ১৪৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকাজ এখনো ১৮.৫০ শতাংশ বাকি রয়েছে। চার বছরে ‘দ্য ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (কম্পোনেন্ট-২ ও কম্পোনেন্ট-৩)’ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাজের অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ। অথচ ৬২০ কোটি ২২ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে আগামী জুনে। জুন মেয়াদে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ এখনো ৬১ শতাংশ বাকি। ছয় হাজার ৫৭৮ কোটি ২০ লাখ টাকার এই প্রকল্প ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে নেওয়া হয়। আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে ‘ন্যাশনাল রেজিল্যান্স প্রগ্রাম’ প্রকল্পের। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নেওয়া ৩১ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার টাকার এই প্রকল্পের কাজ এখনো ১৫ শতাংশ বাকি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক দিন হলো এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। কোন কারণে অগ্রগতি হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখতে সাবকমিটি কাজ করছে। ’ সাবকমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা