kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আলোকচিত্রে ঊর্ধ্বগামী নগর ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলোকচিত্রে ঊর্ধ্বগামী নগর ঢাকা

শিল্পী বশির আহমেদ সুজনের ‘দাঁড়াও ঢাকা’ শীর্ষক প্যানারমিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডির আলিয়ঁস ফ্রসেজে দুনিয়াদারি আর্কাইভের আয়োজনে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বশীর আহমেদ সুজনের ‘দাঁড়াও, ঢাকা’ শীর্ষক আলোকচিত্রের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও একক প্যানোরমিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে গতকাল শুক্রবার। বিকেল ৫টায় দুনিয়াদারি আর্কাইভের আয়োজনে ধানমণ্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথিতযশা আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অতিথিদের নিয়ে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক ফ্রঁসোয়া ঘ্রোজঁ ও স্থপতি নুরুর রহমান খান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আলোকচিত্রী বশীর আহমেদ সুজন যখন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন তখন উঁচু দালান বলতে ছিল মতিঝিলের ২৪ তলা জনতা ব্যাংক ভবন। ছিল বেবিট্যাক্সি, ঠেলাগাড়ি ও রিকশা। আর ছিল পাখির ঝাঁক। এসবই এখন তাঁর কাছে স্মৃতি। প্রিয় ঢাকা কখন যেন হয়ে গেল দূর উচ্চতার এক অচেনা শহর। তাঁর মনে হয়, বিস্তৃত এই শহরটি ক্রমশ আঁটোসাঁটো হয়ে ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। আলোকচিত্রের মাধ্যমে প্রিয় শহরের প্রতি তাই তাঁর আহবান  ‘দাঁড়াও, ঢাকা। ’

‘দাঁড়াও, ঢাকা’ শীর্ষক প্রদর্শনীর ধরন ও আলোকচিত্রের বইয়ের গঠনে বেশ অভিনবত্ব দেখা গেছে। গ্যালারির দেয়ালে ছবি ঝোলানোর প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে বিশেষভাবে তৈরি কাঠামোতে মানবসমান উঁচু প্রিন্টে এমনভাবে প্রদর্শনীটি সাজানো হয়েছে, দেখে মনে হয় শহরের দালানকোঠা গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাঠামোর ওপর আলো পড়ে মেঝেতে ছায়ার যে প্রতিবিম্ব পড়েছিল তা দেখে মনে হতে পারে এগুলো নগর ঢাকারই উঁচু ইমারতের প্রতীক।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ৪২টি আলোকচিত্র ঢাকার রাস্তায় ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় তোলা। এর ভেতর করোনা মহামারিকালীন ঢাকার কয়েকটি দৃশ্যও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। প্রদশর্নীটি কিউরেট করেছেন আমিরুল রাজিব ও নাঈম উল হাসান। কালের কণ্ঠকে আমিরুল রাজিব বলেন, ‘বাংলাদেশের আলোকচিত্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্যানোরমিক আলোকচিত্রের প্রদর্শনী ও বই হলো ‘দাঁড়াও, ঢাকা’। মুঘলদের হাতে ১৬১০ সালে ঢাকার পত্তন। প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই শহর। শহরে মানুষ বাড়ে, তার সঙ্গে আবাসনও বাড়তে থাকে সমান তালে। দৃষ্টিসীমা ছাপিয়ে ওঠা দালান ও ধূসর উন্নয়নে সবুজ প্রাণ-প্রকৃতি কারোরই দম ফেলার উপায় নেই এখানে। এই ক্রমপরিবর্তনে ‘বাক্সে বাক্সে’ জ্যামিতিক গাঁথুনির যে শহর গড়ে উঠছে তা আলোকচিত্রী বশীর আহমেদ সুজন তাঁর ক্যামেরায় দেখাতে চান। এ এক ক্লান্ত, অবসরবিহীন, ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা শহর। যেন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকা খোলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে ঘোলাটে আয়নায়, প্রান্তিক মানুষের চোখে চোখ রাখে অতিমারির পর জরাগ্রস্ত সময়ের একরোখা মুখ। ’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি নাসির আলী মামুন বলেন, ‘আলোকচিত্র হলো পৃথিবীর সমস্ত দৃশ্যকল্পের নির্যাস। এ দেশে আলোকচিত্র চর্চার বয়স প্রায় শত বছর। রাজধানী ঢাকা এক ক্যারিসমেটিক শহর। এই শহরের নানা আয়োজন ও জীবনযাত্রা শিল্পী তাঁর ক্যামেরায় ধরেছেন। প্রায় সব ছবিই আকাশের দিকে ঊর্ধ্বমুখী। ’ নাসির আলী মামুন আলোকচিত্রকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে স্থান দেওয়ার দাবি জানান।     

বশীর আহমেদ ঢাকায় থাকেন। তিনি ম্যাপ ফটো এজেন্সির সদস্য। ২৫ বছরের কর্মজীবনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থার হয়ে কাজ করেছেন। তাঁর প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে ম্যাপ ফটোগ্রাফারদের যৌথ প্রযোজনা ‘বত্তৃ’ (২০০৩), এন আননুন ডাস্ক (২০০৭), দ্য ক্রোশেট ভিলেজ (২০১০)।



সাতদিনের সেরা