kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

জাহানারা ইমামের জন্মবার্ষিকী

ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে ভিন্ন ধর্ম ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

ওয়েবিনারে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার মুন্সীগঞ্জের শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল, সুনামগঞ্জের ঝুমন দাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রসরাজ দাস, সিলেটের রাকেশ রায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয়দেব চন্দ্র শীল, কুমিল্লার অনীক ভৌমিক নিজেদের বর্তমান অবস্থা ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৌলবাদীদের সাম্প্রদায়িক জিহাদ প্রতিরোধ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

ভুক্তভোগী হৃদয় মণ্ডল বলেন, ‘এই পৃথিবীতে একটু শান্তিতে বাস করতে হলে দরকার অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক গুণাবলির অধিকারী হওয়া, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার মতামতকে সম্মান করা।

বিজ্ঞাপন

ঝুমন দাস বলেন, ‘মামুনুল হকের সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের গঠনমূলক সমালোচনা করে আমি প্রতিবাদ করেছিলাম ফেসবুকে। এর পরের ঘটনা আপনাদের সবারই জানা আছে। সাত মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়েছি আমি। মামলা চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাকে। ’

অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে ইসলামের দোহাই দিয়ে ভিন্ন ধর্ম, ভিন্নমত ও ভিন্ন জীবনধারার অনুসারীদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অমুসলিম ও মুক্তচিন্তকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার প্রতি তারা ক্রমাগত বিষোদগার করছে। ইসলাম অবমাননার অপবাদ দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে এবং তাদের ঘরবাড়ি, পাড়া-মহল্লা, গ্রামে হামলা হচ্ছে। ’

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘তিনি যে পথ দেখিয়ে গেছেন, সেই পথে আমরা চলছি। স্বাধীনতাবিরোধী মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে তাঁর কর্মজীবন আমাদের কাছে পাথেয়। ’

তিনি আরো বলেন, ‘ভিকটিমদের কাছ থেকে সরাসরি হয়রানির চিত্র জানতে পেরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যেভাবে শেকড় গেড়েছে, তা উপড়ে ফেলা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে স্বাধীনতাবিরোধীরা মৌলবাদী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ’

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার ব্যক্তিদের মামলার বিবরণ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য নির্মূল কমিটির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা