kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণ

এবারের ঈদ যাত্রা আগের চেয়ে স্বস্তিদায়ক

♦ আগাম নিষেধাজ্ঞা জারি করেও লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন ঠেকানো যায়নি
♦ লঞ্চের কেবিন, বাস ও ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি এবং বাড়তি বাসভাড়া আদায় বন্ধ হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়কসহ বিভিন্ন ফেরিঘাটে তীব্র যানজট, ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয় এবং সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনাসহ নানা শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এবারের ঈদ যাত্রা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেকটা স্বস্তিদায়ক ছিল। সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর তৎপরতাও ছিল যথেষ্ট ইতিবাচক। তবে আগাম নিষেধাজ্ঞা জারি করেও লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন ঠেকানো যায়নি। লঞ্চের কেবিন, বাস ও ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি এবং বাড়তি বাসভাড়া আদায় বন্ধ করতে পারেনি প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ যাত্রা পর্যবেক্ষণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূরপাল্লার সড়ক ও মহাসড়কে ক্ষুদ্র যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ হলেও এবার অগণিতসংখ্যক মোটরসাইকেল বিনা বাধায় দূরপাল্লার যাত্রী বহন করেছে। এ কারণে গণপরিবহনে চাপ কিছুটা কমলেও ঈদ যাত্রায় যেসব দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে তার প্রায় অর্ধেকের জন্যই মোটরসাইকেল দায়ী।

সড়কপথ : নির্মাণ, সম্প্রসারণ ও সংস্কারকাজ চলমান থাকায় কয়েকটি গুরুত্ব্বপূর্ণ মহাসড়কে তীব্র যানজটের বিড়ম্বনা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ টিম, হাইওয়ে পুলিশ এবং বিভিন্ন স্থানের জেলা, উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন তৎপর থাকায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটেনি। তবে পদ্মার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-মাঝিরঘাট, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজীরহাট এবং মেঘনার লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথে ফেরিস্বল্পতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী জেলাগুলোর সড়কযাত্রীদের ফেরিঘাটে গাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে। এ ছাড়া যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের কারণে এসব নৌপথ ব্যবহারকারী কাটাপথের বাসযাত্রীদের এক থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত সড়ক পায়ে হেঁটে গিয়ে লঞ্চে উঠতে হয়েছে।   

নৌপথ : সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা নিকট-অতীতের চেয়ে ভালো ছিল উল্লেখ করে জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, স্বাভাবিক সময়ে এখান থেকে প্রতিদিন ৮০-৮৫টি লঞ্চ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেলেও ঈদের চাপ সামাল দিতে লঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে শতাধিক করা হয়। অর্থাৎ সদরঘাট থেকে প্রতিদিন দুই শতাধিক লঞ্চ যাতায়াত করেছে। তবে ঘরমুখো তীব্র জনস্রোতের কারণে ২৯ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত প্রায় সব লঞ্চেই ছাদে যাত্রী তোলাসহ ধারণক্ষমতার চার-পাঁচ গুণ যাত্রী বহন করতে হয়েছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঈদের দিনসহ পরবর্তী দুই দিনও লঞ্চে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ ছিল। এই তিন দিনে অন্তত ২০০ লঞ্চ যাত্রী বোঝাই করে সদরঘাট ছেড়েছে। তবে বিআইডাব্লিউটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং লঞ্চমালিকদের তৎপরতা ও কঠোর নজরদারির কারণে নৌপথের বিভিন্ন টার্মিনাল ও ঘাটগুলোতে অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।   

রেলপথ : এবার রেলপথও ছিল স্বস্তিদায়ক। ঈদ যাত্রায় প্রতিদিন কমলাপুর রেলস্টেশনে একাধিক ট্রেনের সময়সূচি হেরফের হলেও তা ছিল সহনীয় মাত্রায়। তবে বরাবরের মতো এবারও ট্রেনের ছাদে যাত্রী বহন ঠেকাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া অনলাইনে ও কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তি পুরোপুরি লাঘব করা সম্ভব হয়নি বলে ভুক্তভোগী যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

টিকিট কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভাড়া : সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও জোর তৎপরতা সত্ত্বেও লঞ্চের কেবিন এবং ট্রেন ও বিলাসবহুল বাস সার্ভিসগুলোর টিকিট কালোবাজারি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হয়েছে ঈদ যাত্রীদের। নৌ মন্ত্রণালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয় ঈদের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করলেও তা শতভাগ কাজে আসেনি। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, তাঁরা কেবিনপ্রতি এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে দালালদের কাছ থেকে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট কিনেছেন। তবে সদরঘাটে কোনো লঞ্চের কাউন্টার থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।



সাতদিনের সেরা