kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

৫ মে

বেশির ভাগ মামলাই এখনো তদন্ত পর্যায়ে

♦ দুই দিনের নাশকতায় মামলা হয়েছে ৮৩টি
♦ একটি মামলার রায়ে সব আসামি খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৯ বছর আগে তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। নাশকতার ঘটনা ঘটে দেশের আরো কয়েকটি জেলায়। এসব নাশকতার ঘটনায় ৮৩টি মামলা হয়। এই মামলাগুলোর মধ্যে মাত্র একটির বিচার হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেই রায়ে সব আসামি খালাস পায়। অন্য মামলাগুলোর মধ্যে ২৯টিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আর চারটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। বাকি ৪৯টি মামলা তদন্ত পর্যায়েই রয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হেফাজতের সেই নাশকতার ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। ১৩ দফা দাবিতে ওই দিন শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিলেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি ঢাকায় হওয়া মামলার তদন্তের ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হেফাজতের বিরুদ্ধে দায়ের করা বেশ কিছু মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে কিছু মামলার চার্জশিটও দাখিল করব। ’

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধীদের ফাঁসির দাবিতে ২০১৩ সালে রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে কথিত নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবি তোলে হেফাজত। ৫ মে ঢাকার ছয়টি প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচি শেষে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয় হেফাজতের বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক। এক পর্যায়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়ে আগুন, ভাঙচুর ও নাশকতা চালান। ঘটনার রেশ ধরে ৬ মে হাটহাজারী, নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চালায় হেফাজতের কর্মীরা। এসব ঘটনায় ঢাকাসহ সারা দেশে ৮৩টি মামলা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হেফাজত নেতা আল্লামা শফী ও জুনাইদ বাবুনগরীর মৃত্যু এবং মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের কারণে সংগঠনটি অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। নেতারা কয়েক দফায় সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে ‘আপস-বৈঠক’ করেছে। বিভিন্ন বিষয়ে এখনো চলছে আলোচনা। সরকারের সিদ্ধান্তে অনেক মামলার তদন্তের গতি নির্ভর করছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ৫ মে নাশকতার ঘটনায় ৮৩টি মামলার পর ২০১৫ থেকে ২০২০ সালে বিভিন্ন ইস্যুতে কয়েক দফায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরো ২০টি মামলা হয়। সব মিলিয়ে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার মোট মামলা দাঁড়ায় ১০৩টিতে। এগুলোর মধ্যে বাগেরহাটের একটি মামলার রায় হয়। তাতে সব আসামি খালাস পায়। আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে ২৯টির। চারটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। বাকি ৬৯টি মামলার তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি মামলা ৫ মের ঘটনাসংশ্লিষ্ট।

এদিকে গত বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ঘিরে বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকে। ওই সমাবেশের সূত্র ধরে কয়েকটি স্থানে ব্যাপক সংঘাত-সংঘর্ষ হয়। প্রাণ যায় অন্তত ১৭ জনের। এর আগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপনের বিরোধিতা ও নাশকতার অভিযোগও ওঠে হেফাজত কর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় ১৬৫টি মামলা হয়েছে। অর্ধশত কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।



সাতদিনের সেরা