kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তার জন্য খাল ভরাট

পানি উঠে বিসিকের ৩০ কারখানা বন্ধ

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৬ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেন হচ্ছে। ভারতীয় ঋণ সহায়তার এ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমান সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত, যা বেড়ে হবে ১১৪ ফুট। ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওই সড়কে চার চাকার যানবাহনের জন্য চারটি লেনের পাশাপাশি দুই ও তিন চাকার যানের জন্য দুটি আলাদা লেন থাকার কথা।

বিজ্ঞাপন

প্রস্থ বাড়াতে গিয়ে সড়কের আশুগঞ্জ থেকে ধরখার পর্যন্ত বেশির ভাগ জায়গায় জলাশয় (খাল) ভরাট করতে হচ্ছে। এর খেসারতও পদে পদে। প্রথমে একটি সেচ প্রকল্পের এলাকার জলাশয়টি ভরাট করা হলে কৃষকরা দুর্ভোগে পড়েন। খাল ভরাটের কারণে এবার তলিয়ে গেছে বিসিক শিল্পনগরী। বন্ধ রয়েছে সেখানকার অর্ধেকের বেশি (৩০টির মতো) কারখানার উৎপাদন।

খাল ভরাট নিয়ে চিন্তায় আছে সড়কের পাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। এলাকার পানি নিষ্কাশন নিয়ে তাদের এ চিন্তা। কারণ এতে পানি কোথাও কোথাও বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে সমন্বয়হীনতা কাজ করছে। সড়কটি নির্মাণ করতে গিয়ে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সেটিও ভাবা দরকার ছিল। শুরুতে ভাবতে পারলে একই বাজেটে প্রতিকূলতা দূর করা যেত।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজে জলাশয় ভরাট করার নীতিমালা আছে। তবে সে ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা দেখা দেবে, সেগুলো দূর করার কথাও বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কটির দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটার। প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে তিন হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই হাজার ২৫৫ কোটি  টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছে ভারত। প্রকল্পের অধীনে ১৬টি সেতু, দুটি রেলওয়ে ওভারপাস, তিনটি আন্ডারপাস, ৩৬টি কালভার্ট, ১০টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আশুগঞ্জ থেকে ধরখার পর্যন্ত কাজ চলছে পুরোদমে। কোথাও কোথাও সড়ক দৃশ্যমান। স্থানীয় লোকজন জানায়, সড়কের ওই অংশের ৩৯ কিলোমিটারজুড়ে দুই পাশেই খাল ছিল। এর মধ্যে কিছু কিছু অংশ আগে থেকেই অবৈধ দখলে। এখন সড়ক প্রশস্ত করতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকাকে বাইপাস করা অংশের কয়েক কিলোমিটার বাদে পুরো খাল ভরাট করে ফেলা হয়েছে। বাইপাস অংশে জমি ও বাড়ির জায়গা অধিগ্রহণ করে এর ওপর দিয়ে সড়ক নেওয়া হচ্ছে।

চার লেন প্রকল্পের পরিচালক খন্দকার গোলাম মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সড়কের পাশের জয়গাটি মূলত খাল নয়। সড়ক করতে গিয়ে মাটি কাটার পর অনেক আগেই এটি জলাশয়ের মতো হয়ে যায়, যেটাকে বরোপিট বলা হয়। এখন সড়ক করার প্রয়োজনে এটা ভরাট করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প কিছু করার কোনো নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়নি। নকশার বাইরে কোথাও কোনো ড্রেন বা এজাতীয় কিছুও আমরা করতে পারব না। তবে সড়কটি চলাচলের উপযোগী রাখতে যা যা করা দরকার করা হবে। ’



সাতদিনের সেরা