kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

অজুহাত নয়, স্কুল খোলা রাখুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কভিড-১৯-এর নতুন ধরন ওমিক্রন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এটি যাতে শিশুদের পড়াশোনাকে ব্যাহত করতে না পারে সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে সরকারগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে ইউনিসেফ। তারা সরকারগুলোর প্রতি বলেছে, কোনো অজুহাত নয়, স্কুলগুলো খোলা রাখুন। শিশুরা আর অপেক্ষায় থাকতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার ইউনিসেফের এক বিবৃতিতে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘স্কুল খোলা রাখুন। স্কুলগুলো পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে প্রায় ৬১ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা জানি, কভিড-১৯ ঝুঁকি প্রশমনের ব্যবস্থাগুলোই স্কুলগুলোকে খোলা রাখতে সাহায্য করে। তবে ডিজিটাল সংযুক্তির পেছনে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলেই কোনো শিশু পেছনে পড়ে থাকবে না। প্রতিটি শিশুকে স্কুলে ফেরাতে আমাদের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি কমিউনিটির প্রান্তিক শিশুদের ওপর বিশেষ লক্ষ রেখে কিছু বিষয়ে বিস্তৃত সহায়তা দেওয়া দরকার। যেমন শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া, মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তা, সুরক্ষা এবং অন্যান্য পরিষেবা নিশ্চিত করা। ’

বিবৃতিতে সরকারগুলোর প্রতি বলা হয়, ‘শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের অবিলম্বে টিকা দিন। প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মী এবং উচ্চঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে করোনার টিকা দেওয়ার পরপরই শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের সম্পূর্ণরূপে সমর্থন ও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অগ্রাধিকার প্রাপ্য জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি সুরক্ষিত করার পর এবং টিকার যথেষ্ট প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে ইউনিসেফ শিশুদের টিকাদানকে সমর্থন করে। সশরীরে স্কুলে যাওয়ার জন্য টিকাদানকে পূর্বশর্ত করবেন না। ’

বিবৃতিতে হেনরিয়েটা ফোর বলেন, করোনার টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে সশরীরে স্কুলে যাওয়ার শর্ত শিশুদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ না পাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউনিসেফ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের টিকাদান ছাড়াই স্কুলগুলো খোলা রাখার তাগিদ দিচ্ছে। পাশাপাশি কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কৌশল যাতে পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনের অন্য দিকগুলোতে শিশুদের অংশগ্রহণকে সহজতর করে, তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করছে।

হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘সংকটময় পরিস্থিতিতে সব সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কভিড-১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থায় যে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তা আমরা স্বীকার করি। তবে এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি খুবই বেশি। শিশুদের স্কুলে রাখার জন্য সম্মিলিতভাবে আমাদের পক্ষে সম্ভব সব কিছু করতে হবে। ’



সাতদিনের সেরা