kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

ডিএনসিসি

জলাধারের জায়গার স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জলাধারের জায়গার স্থাপনা উচ্ছেদ

কুড়িল উড়ালসেতুর পাশে গতকাল সকালে জলাধার উদ্ধার করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভারসংলগ্ন জলাধারের জায়গায় বড় একটি বিলবোর্ড। এতে লেখা, ‘সাইট ফর ফাইভ স্টার হোটেল অ্যান্ড শপিং কমপ্লেক্স—মিলেনিয়াম হোল্ডিং লিমিটেড’। এটি বরাদ্দ দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। সেখানে ভরাটও চলছিল।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর সিটির মেয়রের উপস্থিতিতে বিলবোর্ডসহ অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

গতকাল সকালে জলাধারের জায়গা উদ্ধারে অভিযানে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। জায়গাটি বাংলাদেশ রেলওয়ের হওয়ায় শুরুতেই মেয়র রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এ সময় আতিকুল ইসলাম রেলমন্ত্রীকে বলেন, ‘এটা তো জলাধার। আপনারা কিভাবে এ জায়গা বরাদ্দ দিলেন? খিলক্ষেত, এয়ারপোর্ট রোড, নিকুঞ্জসহ আশপাশের সব এলাকার পানি এখানে জমা হয়। এটা যদি ভরাট করে পাঁচতারা হোটেল এবং শপিং কমপ্লেক্স হয়, তাহলে তো বর্ষায় আশপাশের এলাকা ডুবে যাবে। জলাধার দখল করে আমি কোনোভাবেই এটা এখানে হতে দেব না। ’

মেয়রের এ কথোপকথন স্থানীয় লোকজনও শুনছিল। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে গড়ে ওঠা স্থাপনা ভাঙতে শুরু করে। মুহূর্তেই অস্থায়ী স্থাপনার বেশ কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পরে ঢাকা উত্তর সিটির বুলডোজার এসে বিলবোর্ডসহ সব কিছু গুঁড়িয়ে দেয়। এর আগে কুড়িল ফ্লাইওভারসংলগ্ন জলাধারের পাশে আগে থেকেই উপস্থিত হতে শুরু করে স্থানীয় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘জলাশয় আমাদের খুব প্রয়োজন। এ জলাশয়কে ঘিরেই আমরা একটি প্ল্যান করেছি, এখানে আমরা একটি ওপেন স্পেস করে দেব। আশপাশের সব এলাকার পানি এখানে এসে জমা হয়। এমন একটি জলাশয়ের জায়গা বাংলাদেশ রেলওয়ে পাঁচতারা হোটেল এবং শপিং মল করার জন্য কিভাবে বরাদ্দ দিল, এটা আমার বোধগম্য নয়। ১.৮৪ একর জমি, যেটা জলাশয়, সেটা তারা কিভাবে বরাদ্দ দেয়?’ তিনি আরো বলেন, ‘রেলওয়ের ডিজিকে জিজ্ঞেস করার পর উনি বললেন, স্যার, এটা জলাশয়? আমার বিষয়টি জানা ছিল না। ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুড়িল উড়ালপথসংলগ্ন এলাকায় জলাধার। জলাধারের একপাশে রেললাইন ও কুড়িল উড়ালপথের খিলক্ষেত-প্রগতি সরণি, অন্য পাশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে। জলাধার ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে জলাধার।



সাতদিনের সেরা