kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

বানারীপাড়ায় জমি দখলের চেষ্টায় নালিশি অভিযোগ

♦ স্থানীয় এমপির খামারের ব্যবস্থাপকও আসামি
♦ এজাহারে এমপির কথা উল্লেখ আছে

বরিশাল অফিস   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশালের বানারীপাড়ার পশ্চিম তেতলা গ্রামে কৃষক রতন ঘরামীকে জিম্মি করে জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় আদালতে একটি নালিশি অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বানারীপাড়া আমলি) আদালতে অভিযোগটি করেন রতন ঘরামী। আদালতের বিচারক মো. জহির উদ্দিন অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য (বরিশাল-২ আসনের এমপি) মো. শাহে আলমের নির্মাণাধীন গরুর খামারের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) আল আমিন, স্থানীয় উদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. ইব্রাহিম বেপারী ও তাঁদের সহযোগী তুহিন গাজী ও ইলিয়াস খানকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে শাহে আলমের কথা উল্লেখ থাকলেও আসামির তালিকায় তাঁর নাম নেই।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, বাদী কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ১৫ দিন আগে রাত ৮টার দিকে এমপি শাহে আলম তাঁর বাসায় বাদী রতন ঘরামীকে ডেকে পাঠান। রতন এমপির বাসায় গেলে তিনি তাঁকে গরু-ছাগলের খামার করার কথা জানিয়ে ১৫ কাঠা জমি লিখে দেওয়ার কথা বলেন। এ কথা শুনে রতন উত্তর না দিয়ে চলে আসেন। গত ২৪ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে খামারটির ম্যানেজার আল আমিনসহ এজাহারনামীয় আসামিরা রতনের বসতঘরে ঢোকেন এবং ১৫ কাঠা জমি এমপির নামে লিখে দিতে বলেন। লিখে না দিলে রতনের পরিবার দেশে থাকতে পারবে না বলে হুমকি দেন। আসামিরা তাঁদের সঙ্গে থাকা দা-চাকু দিয়ে প্রাণনাশ এবং একের পর এক মামলা দেওয়ার হুমকিও দেন। এ সময় রতনের ডাকচিৎকারে স্বজনরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে রাত ২টা ২০ মিনিটে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। আসামি তুহিন গাজী ও ইলিয়াস খানকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটক করতেও সক্ষম হয়। কিন্তু পরদিন তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আসামিরা বাদীকে ছয় মাস ধরে ভয়ভীতি ও নানাভাবে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবর রহমান বলেন, ৩৪২, ৩৮৭, ৩৮৯ ধারায় দায়ের করা অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন বাদী।

এদিকে রতন ঘরামী জানিয়েছেন, গতকাল তিনি বানারীপাড়া থানায় এজাহার নিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি; বরং দায়িত্বরত অফিসার তাঁকে মোবাইল ফোনে গালাগাল করেন। স্থানীয় এমপির নির্দেশে রতন ঘরামীসহ ১৩টি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর অত্যাচার ও জমি দখলের বিরুদ্ধে রতন প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর লিখিত দিয়েছেন।

রতন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। আমি নিরাপত্তার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। ’

থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, রতন ঘরামী থানায় আসা তো পরের কথা, মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করেননি। তাঁর অভিযোগ মিথ্যা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রতন ঘরামীর জমির পাশে শাহে আলম জমি কিনেছেন তাঁর খামার করার জন্য। তিনি খামারের জন্য রতনের জমি কম দামে কিনতে চান। তবে রতন জমি বেচবেন না।



সাতদিনের সেরা