kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

এমপি ও মেয়রের বিরোধ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এমপি ও মেয়রের বিরোধ চরমে

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। সদ্য অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচন ঘিরে দুই নেতার বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন মেয়র।

বিজ্ঞাপন

বিরোধের কারণ

নেতাকর্মীরা জানান, গত ১৭ জানুয়ারি বাঁশখালী পৌরসভায় নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে আবারও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন বর্তমান মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী। কিন্তু দল থেকে মনোনয়ন পান পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম তোফাইল বিন হোসাইন। তিনি এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এর পর থেকে এমপির সঙ্গে সেলিমুলের দূরত্ব ও দ্বন্দ্ব বেড়ে যায়।

ওই নির্বাচনে তোফাইল স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। অভিযোগ উঠেছে, তোফাইলের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি ঘরানার হিসেবে পরিচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম হোসাইনী। তাঁর পক্ষে বর্তমান মেয়র কাজ করেন।

এদিকে নির্বাচনের পরদিন গত ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাঁশখালীর জলদির মিয়াবাজার এলাকায় উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হীরা মনির বাসায় চায়ের দাওয়াতে গিয়েছিলেন সেলিমুল। ওই সময় কয়েকজন যুবক গিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় সেলিমুলকে মারধর করাসহ ভিডিও ধারণ করে। পরে ফেসবুকে ছেড়ে দিলে তা ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলায় মেয়র উল্লেখ করেছেন, ‘তুই (সেলিমুল) মোবাইল মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রীর বাসায় কেন আসছিস’—এই বলে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।

অন্যদিকে এমপির বিরুদ্ধে বাঁশখালীতে দলীয় নেতাদের পরিবর্তে বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন লোকজনকে পোষণের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৩-২০১৫ সময়ে জ্বালাও-পোড়াও ও নাশকতার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এমপির কারণে আলোচিত ওই ঘটনাগুলোতে প্রধানসহ বেশির ভাগ অভিযুক্ত পার পেয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক নেতা গতকাল বলেন, দেশের আলোচিত জঙ্গি (কাতারে পলাতক) জিয়াউদ্দিন ফাহাদের ভাই সালাহউদ্দিন কামালের বিরুদ্ধে বাঁশখালীতে কয়েকটি মামলা রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে বাঁশখালীর সাধনপুরে জঙ্গি আস্তানা উদঘাটনের ঘটনায় অভিযুক্ত সালাহউদ্দিন কামালকে সাধনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ দেখানো হয়েছে। ওই প্যাডে এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের সই রয়েছে। এভাবে বিভিন্ন সময় সরকারবিরোধী বিভিন্ন অপকর্মে অভিযুক্তদের দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন পদে রাখা হয়েছে।

তিন বছর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে বিষোদগার করা এমপির একটি অডিও ভাইরাল হয়েছিল। এ ছাড়া আরো বিভিন্ন ইস্যুতে এমপিকে নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিব্রত বলে জানা গেছে। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগকে সম্মেলন করার জন্য বারবার নির্দেশনা দিলেও এমপি মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে : মেয়র

‘বাঁশখালীর এমপি নিজস্ব বাহিনী ও জামায়াত-বিএনপির লোক দিয়ে সংগঠন চালাচ্ছেন। তিনি একক রাজত্ব কায়েম করতে চান। সে কারণে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ’ গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী এ অভিযোগ করেন। সম্প্রতি তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে গতকাল এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘গত ১৮ জানুয়ারি এমপির লোকজন আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। সিরাজ, মিনার ও ইলিয়াছ এমপির লোক হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর থেকে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলেছে তাঁর লোকজন। ’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলার সহকারী কমান্ডার (অর্থ) আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম নগরের আহ্বায়ক শাহেদ মুরাদ শাকু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্যসচিব কামরুল হুদা পাভেল প্রমুখ।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর মুঠোফোনে গতকাল রাত ৮টা থেকে সোয়া ৯টা পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ বার কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল জানান, এমপি ঢাকায় আছেন। অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মেয়র এসব কথা বলেছেন। ’



সাতদিনের সেরা