kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

মনোহরগঞ্জ

‘বিনা ভোটের’ পথে সেই তিন ইউপির নির্বাচন

নৌকার প্রার্থীদের আপিলে আগের আদেশ স্থগিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সেই তিন ইউপির নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল। উচ্চ আদালতে চার প্রার্থীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঝলম উত্তর, লক্ষ্মণপুর ও সরসপুর ইউনিয়নে আগামী ৩১ জানুয়ারি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও এখন তা হচ্ছে না। ইউনিয়নগুলোতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষিত নৌকা প্রতীকের তিন প্রার্থীর আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে আদালত আগের আদেশটি ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার আদেশ দিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশে গত ২০ জানুয়ারি ওই তিন ইউনিয়নের চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন রিটার্নিং অফিসারের কাছে।

বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার তাঁদের প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই চারজনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বিদ্রোহী প্রার্থীরা রিট আবেদন করে উচ্চ আদালতের যে আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন নৌকার প্রার্থীরা। মঙ্গলবার বিকেলে ওই আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগের আদেশটি ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর আগে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে সব ইউপিতেই আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের গত ১৪ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল।

গতকাল বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটার্নিং অফিসার রাজিবুল করিম বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই তিন ইউনিয়নে আগামী ৩১ জানুয়ারি ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু নৌকার প্রার্থীরা স্বতন্ত্র ওই চার প্রার্থীর করা রিটের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আপিল করলে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ আগের আদেশটি ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেন। এ কারণে ৩১ জানুয়ারি ওই তিন ইউনিয়নে আর ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়েছি। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ইসি থেকে আমাদের জানাবে। এরপর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ’ 

লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তাঁদের রিটের বিরুদ্ধে আপিল করেছি। এখন আগের আদেশ স্থগিত হয়ে গেছে। ওই প্রার্থীরা আগে মনোনয়ন জমা দেননি। এখন আমাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করার পর তাঁরা নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা শেষ পর্যন্ত সফল হবেন না। ’ 

উচ্চ আদালতে রিটকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারা আমাদের নাগরিক অধিকার। তারা নির্বাচনকে এত ভয় পায় কেন? একের পর এক ষড়যন্ত্র করে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হতে চায়। তাদের সৎসাহস থাকলে আপিল করতে গেল কেন? আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে আইনগতভাবেই শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাব। ’

গত ১৪ জানুয়ারি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ মনোনীতদের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। এরপর তিন ইউপির চারজন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী উচ্চ আদালতে রিট করেন।



সাতদিনের সেরা