kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

আলোকচিত্র প্রদর্শনী

‘মানবিক নীতি : এখানে এবং এখন’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মানবিক নীতি : এখানে এবং এখন’

সুইজারল্যান্ডের লুসানের ফটো এলিসি জাদুঘরের সহযোগিতায় বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে গতকাল ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মানবিক সংকট বিশ্বজুড়ে মানুষের দুর্দশার কারণ। এমনকি যারা এই সংকট দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত নয়, তারাও অসহায় বোধ করে। কিন্তু মানুষ কিভাবে এই সংকটে হতাশাগ্রস্তদের সাহায্য করতে পারে? সমকালীন শিল্প প্রদর্শনী ও উপস্থাপনা ‘মানবিক নীতি : এখানে এবং এখন’ এই মানবিক ও ব্যক্তিগত আবেগ এবং অনুসন্ধানের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করবে।

সুইজারল্যান্ডের লুসানের ফটো এলিসি জাদুঘরের সহযোগিতায় বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মানবতা, ন্যায়পরায়ণতা, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা হলো মানবিক নীতির মূল ভিত্তি। নির্বাচিত ভিডিও ও আলোচিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে মানবিক নীতির তাৎপর্য ও দৈনন্দিন জীবনে এর গুরুত্ব তুলে ধরাই এই প্রদর্শনীর লক্ষ্য। প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই প্রদর্শনী দর্শকদের মধ্যে মানবতার জন্য কাজ করার মানসিকতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ বা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষ যাতে বাস্তুচ্যুত না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এই প্রদর্শনীর জন্য সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, আইসিআরসি ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড বলেন, মানবিক নীতিগুলো সুইস জনগণ হৃদয় দিয়ে অনুভব করে এবং এই অসামান্য মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতেই ১৯৭০ সালের গোড়ার দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তিনি আরো বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড এবং বাংলাদেশ যখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করছে, তখন যৌথভাবে আয়োজিত এই প্রদর্শনী আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ’

বাংলাদেশে আইসিআরসি প্রতিনিধিদলের প্রধান কাটজা লরেঞ্জ বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আইসিআরসি মানবিক সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে ছিল। আমরা শত-হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সুরক্ষা ও সহায়তা দিয়েছি। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আমরা সহায়তা করা চালিয়ে যাচ্ছি। ‘মানবিক নীতি : এখানে এবং এখন’ প্রদর্শনীতে আলোকচিত্র ও প্রাামাণ্যচিত্রগুলোর মাধ্যমে শিল্পীরা তাঁদের মানবতা, ন্যায়পরায়ণতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনতার দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেন দর্শকের সঙ্গে এবং একটি নতুন, স্থানীয় এবং সমসাময়িক দৃষ্টিকোণ থেকে মানবিক নীতিগুলোর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে। ”

প্রদর্শিত ছবিগুলোতে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশে আইসিআরসির কার্যক্রমের প্রতিফলন এবং পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের মানবিক কার্যক্রমের প্রতিফলন ঘটেছে। এ ছাড়া ১০ জন সুইস আলোকচিত্রীর লেন্সের মধ্য দিয়ে দেখা দৈনন্দিন জীবনে মানবিক নীতিমালার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের নির্মিত ১০টি শর্টফিল্মে। পুরস্কারপ্রাপ্ত ছয়টি আলোকচিত্রও রয়েছে প্রদর্শনীতে।

এই প্রদর্শনী সরাসরি এবং অনলাইনে দর্শকদের ব্যক্তিগত মতামত, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পঞ্চম তলায় এই প্রদর্শনী বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। আয়োজকরা সবাইকে, বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনী দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। মাসব্যাপী এই প্রদর্শনী আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রবিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।



সাতদিনের সেরা