kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

মুন্সীগঞ্জে ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে নতুন আলু

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুন্সীগঞ্জে ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে নতুন আলু

ঘূর্ণিঝড় আর বৃষ্টির কারণে দুই দফায় আলু আবাদ করতে হয়েছে কৃষকদের। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার মুন্সীগঞ্জে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। দেশের আলু উৎপাদনের শীর্ষ জেলা মুন্সীগঞ্জে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার ১০৪ হেক্টর কম জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া নতুন আলু তোলা শুরু হলেও জমিতে ফলন কম হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অথচ প্রতি কেজি আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ১০ টাকা কেজিতে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৬৮০ হেক্টর, টঙ্গিবাড়ীতে ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং শ্রীনগরে দুই হাজার হেক্টর। এ ছাড়া সিরাজদিখানে ৯ হাজার ১৫১ হেক্টর, লৌহজংয়ে তিন হাজার ৩৬০ হেক্টর এবং গজারিয়ায় দুই হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আবাদ করা এসব জমিতে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১১ লাখ পাঁচ হাজার ৮৯৩ মেট্রিক টন নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে অনাবাদি রয়েছে দুই হাজার ১০৪ হেক্টর জমি। সে হিসাবে এসব জমিতে ছয় হাজার ৩০০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হওয়ার কথা থাকলেও অনাবাদি থাকায় সেটি আর হচ্ছে না। আলু কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আলু রোপণের উত্তম সময়। তবে এ বছর আবাদ চলাকালে ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির পর বেশির ভাগ জমিতে পানি জমে আবাদকৃত আলুর বীজ নষ্ট হয়ে যায়। জমিতে বীজ নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় অনেকে আলু আবাদ করেননি। তাই আবাদও হয়েছে কম।

কৃষকরা এখন জমি থেকে নতুন আলু তুলতে শুরু করেছেন। এতে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যচ্ছে না। যেসব জমিতে দেরিতে আলু আবাদ করা হয়েছে সেসব জমিতে অনুকূল আবহাওয়া ও বাম্পার ফলন না হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হবে আলু উৎপাদনের শীর্ষ এই জেলা। এতে ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা। অন্যদিকে বৃষ্টিতে অনেক জমিতে আবাদ করতে হয়েছে দুই দফা। এতে সেসব জমিতে খরচের পরিমাণও বেড়েছে দ্বিগুণ। মুন্সীগঞ্জে এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা কেজি। এতে কৃষকরা আলু উৎপাদনের খরচ ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা এ বি এম ওয়াহিদুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ও বৃষ্টির কারণে এ বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গে প্রচুর আলু উৎপাদন হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে দেশে আলুর ঘাটতির আশঙ্কা নেই।



সাতদিনের সেরা