kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ইউপি নির্বাচন

এবার সিইসির কাছে অভিযোগ

উচ্চ আদালতের নির্দেশেও প্রতীক পাননি প্রার্থীরা

কুমিল্লা সংবাদদাতা   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চারজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। ওই চার প্রার্থীর ভাষ্য, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত শুক্রবার বিকেলের মধ্যে তাঁদের প্রতীক দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা। তবে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা প্রতীক পাননি। তাই তাঁরা প্রতিকার চেয়ে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ষষ্ঠ ধাপে আগামী ৩১ জানুয়ারি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) মনোহরগঞ্জে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা।

ওই চার প্রার্থী হলেন ঝলম উত্তর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সরসপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার মজুমদার, একই ইউনিয়নের জসিম উদ্দিন ও লক্ষণপুর ইউনিয়নের আবদুল বাতেন। তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

সিইসির কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে চার প্রার্থী দাবি করেছেন, তাঁদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় উচ্চ আদালত কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তাঁর কার্যালয় থেকে তিনটি ইউনিয়নের প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম প্রদান ও জমা নিতে নির্দেশ দেন। আদেশের বিষয়টি উচ্চ আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেলারেল কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। কিন্তু আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তাঁদের সহযোগিতা না করে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে ওই দিন বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের সময় তাঁদের মনোনয়ন ফরম দিলেও মনোনয়নপত্র জমা নেননি তিনি। এরপর ১৩ জানুয়ারি উচ্চ আদালত আরেকটি আদেশে রিটার্নিং অফিসারকে ওই চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদেশের কপি রিটার্নিং অফিসারের কাছে ১৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে পৌঁছায়। আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসার তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা নেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁদের প্রতীক বরাদ্দ দেননি তিনি। প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে তাঁদের নির্বাচনে সুযোগ দিতে ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সিইসির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।

গতকাল সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানছেন না নির্বাচন কর্মকর্তারা। তাই প্রতিকার চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো প্রতিকার পাইনি। আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাব। ’ 

তবে এ প্রসঙ্গে জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম বলেছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা গত বৃহস্পতিবার ওই চার চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি ওই দিনই তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। তবে কমিশনের পরবর্তী নির্দেশনা এখনো পাননি তাঁরা। কমিশনের নির্দেশনা পেলে প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়াসহ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা