kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

দেড় বছরেও অধরা জেল পলাতক ছিদ্দিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেড় বছরেও অধরা জেল পলাতক ছিদ্দিক

কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে দেড় বছর আগে মই বেয়ে পালিয়ে যান আবু বক্কর ছিদ্দিক নামের এক বন্দি। তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ওই ঘটনায় জেল সুপার জাহানারা বেগমকে লঘুদণ্ড দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গেজেটে বলা হয়েছে, কাশিমপুর কারাগার-২-এর ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ঘটনার দিন এর ২৭টিই অচল ছিল।

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালের ৬ আগস্ট আবু বক্কর ছিদ্দিক কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে নিখোঁজ হন। পরে তাঁকে কারাগারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা খোঁজাখুঁজি করে পাননি। পরে সীমানা দেয়ালের পাশে মই দেখতে পেয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, তিনি পালিয়ে গেছেন। এরপর শুরু হয় তদন্ত। মামলা হয় থানায়। পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে, কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ছিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে ফেরানো যায়নি কারাগারে।

এর আগেও আবু বক্কর ছিদ্দিক কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায় কারাগারের সেল এলাকার একটি সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে নিজেকে আত্মগোপন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি শেষে পরদিন কারাগারের ৪০ নম্বর সেল এলাকার ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয় বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়। সেই ঘটনার পর তাঁকে কারাগারে কিছুদিন শিকল পরিয়ে রাখা হয়। এতে আবু বক্কর কিছুটা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে শিকলমুক্ত করে দেওয়া হয়। কারা চত্বরে তিনি অন্য বন্দিদের সঙ্গে কাজকর্ম করতেন। ছিদ্দিক পালানোর পর বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে ব্যাপক আলোচনায় আসে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

গত ১৩ জানুয়ারি তৎকালীন জেল সুপার জাহানারা বেগমকে লঘুদণ্ড দিয়ে সরকার গেজেট প্রকাশ করেছে। সেই গেজেটে বলা হয়, ‘মই’-এর মতো একটি নিষিদ্ধ পলায়ন সহায়ক সামগ্রী কারা অভ্যন্তরে থাকায় আবু বক্কর ছিদ্দিক মই বেয়ে পালাতে সক্ষম হন। কাশিমপুর কারাগার-২-এ ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ঘটনার দিন ২৭টিই অচল ছিল। এগুলো সচল রাখার পদক্ষেপ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তিনি (জাহানার)। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি জেলারকে মৌখিকভাবে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাসায় বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

গেজেটে বলা হয়, ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে জাহানারাকে অভিযুক্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়।



সাতদিনের সেরা