kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

সড়কের পুরনো ইটেই হচ্ছে সংস্কার

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়কের পুরনো ইটেই হচ্ছে সংস্কার

সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড মান্দারীটোলা সি সড়কে ব্যবহারের জন্য নিম্নমানের পুরনো ইট ভাঙা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১৪ কোটি টাকার একটি সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক খুঁড়ে পাওয়া পুরনো ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে সংস্কারকাজে। ফলে বৃষ্টি এলেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে স্থানীয়রা। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েও রহস্যজনক কারণে এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা) আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে আলাদা দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড মহাসড়ক থেকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত মান্দারীটোলা সি সড়ক উন্নয়নে আট কোটি ২০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। তা ছাড়া একই সড়কের জন্য ২০২০-২০২১ অর্থবছরেও বরাদ্দ দেওয়া হয় পাঁচ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা। একই সঙ্গে সড়কের পাশের ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন অংশের কাজের জন্য ওই এলাকায় অবস্থিত পাঁচটি শিল্প-প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। এর পরেও সড়কটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মান্দারীটোলা সি সড়কের উন্নয়নকাজে পাঁচ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার টাকার বরাদ্দের দায়িত্ব পায় মেসার্স হাসান মোটরস। কোনো ধরনের পুরনো সরঞ্জাম ব্যবহার না করতে তাঁদের প্রয়োজনের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসান মোটরস নিয়ম লঙ্ঘন করে সড়ক খুঁড়ে পাওয়া পুরনো ইটসহ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে।

সরেজমিনে মান্দারীটোলা সি সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক খুঁড়ে পাওয়া পুরনো ইটগুলো পাশের কৃষিজমিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পরে সড়ক পাকাকরণ কাজের জন্য পুরনো ইটকে খোয়া হিসেবে ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। দেখা যায়, সাত-আটজন শ্রমিক পুরনো ইটকে ভেঙে খোয়া প্রস্তুত করছেন। পরে নির্মাণাধীন সড়কে খোয়া ফেলছেন তাঁরা। আবার এসব পুরনো খোয়াকে রোলার দিয়ে চেপে প্রস্তুত করা হচ্ছে পরবর্তী ধাপের জন্য।

স্থানীয়রা জানায়, পুরনো ইট দিয়ে তাড়াহুড়া করে চালানো হচ্ছে সড়কের সংস্কারকাজ। ঠিকাদার কোনোমতে কাজটি শেষ করে বিদায় নিতে মরিয়া। এতে নতুন ইটের লাখ লাখ টাকা ঠিকাদার ও অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে। এভাবে তাড়াহুড়া করে নির্মাণকাজ করায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হাসান মোটরসের স্বত্বাধিকারী মাইনুল হাসান বলেন, ‘২০ বছর আগের পুরনো সামগ্রী ব্যবহার করা গেলে দুই-তিন বছর আগেরগুলো ব্যবহার করা যাবে না কেন? এগুলো তো খুব বেশি দেরি হয়নি। ’

বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী বলেন, ‘ওই সড়কের জন্য সরকারি বিপুল অর্থ বরাদ্দ ছাড়াও স্থানীয় পাঁচটি শিল্প-কারখানার মালিক ড্রেন ও কালভার্টের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন। এর পরেও যদি অনিয়ম হয়, তা দুঃখজনক। ’

সীতাকুণ্ড উপজেলা এলজিআরডি প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারকাজে অনিয়ম করায় আমি তাঁদের সতর্ক করে দিয়েছি। ’ চট্টগ্রাম জেলা প্রকৌশলী মো. আমিরুজ্জামান বলেন, ‘সড়কের কাজে কোনো অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হবে না। সংস্কারকাজ পরিদর্শনের পর অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। ’



সাতদিনের সেরা