kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

লাউতলা খাল উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাউতলা খাল উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় লাউতলা খালের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যা থাকার কথা, বাস্তবে তার কিছুই নেই। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটির অস্তিত্ব নেই। এই খাল উদ্ধার করে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল রবিবার তারা খালের অবৈধ স্থপানা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, লাউতলা খালের দুটি অংশ। একটির প্রস্থ প্রায় ১০০ ফুটের। অন্যটি ৪৬ ফুটের। দুটি খালের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এরপর দখলমুক্ত জায়গার মাটি সরিয়ে লাউতলা খালে স্বাভাবিক পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হবে।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১১টায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও একটি নির্মাণাধীন মার্কেটের কিছু দোকানিকে মালপত্র সরানোর জন্য সুযোগ দেওয়া হয়। পরে অভিযান শুরু হয়। শুরুতে নির্মাণাধীন ভবনের দোকান ভাঙা শুরু করলে কয়েকজন এসে বাধা দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, তিনি দোকানটি ভাড়া নিয়েছেন। অগ্রিম দেওয়া ছাড়াও দোকানের প্রায় অর্ধেক কাজ নিজের টাকায় করতে হয়েছে। দোকান মালিক টাকা দেননি। সিটি করপোরেশন উচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পর এখন মালিককেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল দিনব্যাপী অভিযানে একটি পাকা ভবনের সম্পূর্ণ, তিনটি ভবনের আংশিক ভেঙে ফেলা হয়। এ ছাড়া একটি কাঁচাবাজারের অবকাঠামো এবং ৪০টিরও বেশি টং দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

দুপুর ২টার দিকে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস ভাঙতে গেলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেন। কয়েকজন ট্রাক শ্রমিক সংগঠনের অফিসকে মসজিদ বলে উচ্ছেদে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেটি ভেঙে ফেলা হয়।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, লাউতলা খালের মৌজায় পড়া অবৈধ স্থাপনাগুলোই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আগে থেকে অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে বলা হলেও কেউ তা করেনি।

সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ছিলেন উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভবন অপসারণ করার পর মাটি অপসারণ করে খাল কেটে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য নগরবাসীর সহযোগিতা লাগবে। ’

মেয়র বলেন, খালটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যা থাকার কথা, বাস্তবে তার কিছুই নেই। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটিকে উদ্ধার করে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে যারা অবৈধভাবে খাল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধ দখল ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। নগরীকে জলজট ও জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্ত করতে হলে যেকোনো মূল্যে খালগুলো উদ্ধার করতেই হবে। প্রতিটি খালের দুই পারের সীমানা নির্ধারণ করে তা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

অভিযানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ ও স্থানীয় কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ।



সাতদিনের সেরা