kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

দাওয়াই

থ্যালাসেমিয়া কিছুটা প্রতিরোধ করা যায়

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। মা-বাবার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে এই রোগ ছড়ায়। তবে সতর্কতা অবলম্বন করলে রোগটিকে কিছুটা প্রতিরোধ করা যায়। পরামর্শ দিয়েছেন—অধ্যাপক ডা. এ বি এম ইউনুস, সাবেক চেয়ারম্যান, রক্তরোগ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



থ্যালাসেমিয়া কিছুটা প্রতিরোধ করা যায়

থ্যালাসেমিয়ার কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। কোনো মা-বাবার রক্তে যদি থ্যালাসেমিয়ার জিন থাকে এবং সেখান থেকে বংশপরম্পরায় যদি তা সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হয়, তখন ওই জিনের কারণে সন্তানের রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে থ্যালাসেমিয়া হতে পারে। কেননা বাবা থেকে একটি জিন এবং মা থেকে আরেকটি জিন—এই দুই জিন দিয়ে শিশুর জন্ম হয়। তবে মা ও বাবার যেকোনো একজন থেকে একটি ডিফেক্টিভ জিন যদি শিশুর মধ্যে সঞ্চারিত হয়, তবে তেমন সমস্যা হয় না।

বিজ্ঞাপন

প্রকারভেদ : থ্যালাসেমিয়া মেজর ও থ্যালাসেমিয়া মাইনর হলো থ্যালাসেমিয়ার ধরন। সমস্যা যদি শুধু বাবা অথবা শুধু মায়ের মধ্য থেকে আসে, তাহলে তা থ্যালাসেমিয়া মাইনর। আর যদি দুজনের দেহ থেকেই আসে, তাহলে তা থ্যালাসেমিয়া মেজর, যা বেশ সিরিয়াস আকার ধারণ করতে পারে।

চিকিৎসা : মাইনর থ্যালাসেমিয়ার তেমন চিকিৎসার দরকার হয় না। তবে মেজর থ্যালাসেমিয়ায় নিয়মিত রক্তসঞ্চালন প্রধান চিকিৎসা, যাতে ভালো থাকা যায়। তবে রোগটি যেহেতু জন্মগত সমস্যা থেকে, তাই বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করলে থ্যালাসেমিয়া পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। যারা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন করতে পারছে না বা যাদের থ্যালাসেমিয়া ইন্টারমিডিয়া বা মাইনর, তাদের নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে জীবন সচল রাখার চেষ্টা করতে হবে।

প্রতিরোধে করণীয়

* রক্ত তৈরির জন্য যে উপাদান, সেই পুষ্টিকর খাবার বেশি খেতে হবে।

* শিশুকে ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। একই খাবার বারবার না দিয়ে বয়স অনুযায়ী সব খাবার সমন্বয় করতে হবে।

* শিশু যেন কৃমিতে আক্রান্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

* রোগীর রক্তস্বল্পতা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

* থ্যালাসেমিয়ার বাহকদের মধ্যে বিয়ে নিরুৎসাহিত করুন। অর্থাৎ একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক হলে অন্য কোনো বাহককে বিয়ে করা উচিত হবে না।

* স্বামী ও স্ত্রী দুজনই এ রোগের বাহক হলে, পরিবারে একাধিক থ্যালাসেমিয়ার শিশু থাকলে, পরবর্তী সময় সন্তান নিতে হলে পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভস্থ ভ্রূণ থ্যালাসেমিয়া হলে তা পরিহার (গর্ভপাত) করাতে পারেন। গর্ভাবস্থায় এই পরীক্ষাটি আট থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে করাতে পারলে ভালো।

* জন্মগত থ্যালাসেমিয়ার কারণগুলো জানতে বিয়ের আগে প্রত্যেক হবু স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই উচিত রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নেওয়া যে থ্যালাসেমিয়ার জিন তাঁদের কারোর মধ্যে রয়েছে কি না। এই পরীক্ষায় একজনের থ্যালাসেমিয়া থাকলে তেমন সমস্যা নেই। কিন্তু দুজনের থাকলে সে ক্ষেত্রে বিয়ে করা উচিত নয়। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করা সম্ভব না হলে সন্তান নেওয়ার আগেও রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।



সাতদিনের সেরা