kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

৮ দিন ধরে সাত কিলোমিটার নৌজট

গোলাম সরোয়ার লিটন, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)   

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৮ দিন ধরে সাত কিলোমিটার নৌজট

চুনাপাথর, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আট দিন ধরে আটকে আছে এসব নৌযান। গতকাল সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর বাজার এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাটলাই নদীর সুলেমানপুর বাজার থেকে বাঁশচাতল পর্যন্ত দুই কিলোমিটার নৌপথ। এটুকু পথের নাব্যতা সংকটের কারণে নদীর সাত কিলোমিটার এলাকায় নৌজট দেখা দিয়েছে। পাঁচ শতাধিক নৌযান আট দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই নৌজটে মাসিক ভাড়ায় নৌযান চালানো চালকরা নিঃস্ব হওয়ার পথে।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিকদের অসহায়ত্ত ফুটে উঠেছে। ব্যবসায়ী ও নৌযানের চালকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

নৌযানের চালক ও স্থানীয় ব্যক্তিরা জানায়, সুলেমানপুর বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে নদীটির ২০০ ফুট জায়গা আপাতত খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে কয়েক ঘণ্টা খনন করলেই নৌজটের তীব্রতা কমে আসবে। তাঁরা আরো জানান, উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে চুনাপাথর ও কয়লা নিয়ে আসা পাঁচ শতাধিক নৌযান নদীতে আটকে আছে।

গতকাল শনিবার সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা যায়, এমভি মোবাশ্বেরা ছোট আকারের বাল্কহেড। চুনাপাথরবোঝাই এই নৌযানের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারসংলগ্ন সমসার হাওরের পার থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর যেতে সময় লাগে তিন দিন। ১৫ জানুয়ারি সমসার হাওরের পার থেকে যাত্রা করে মোবাশ্বেরা। দুই ঘণ্টার মধ্যেই নৌযানটি পাটলাই নদীর সুলেমানপুর বাজার এলাকায় পৌঁছে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত এটি সুলেমানপুর এলাকায় ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল।

সুলেমানপুর এলাকা পাড়ি দিতে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে জানেন না নৌযানটির চালক (সুকানি) নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, তাহিরপুর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মালপত্র পরিবহনে নৌযানটির সর্বমোট খরচ হয় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতিদিনের নৌকাভাড়াসহ পাঁচজন শ্রমিকের জন্য অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে চার হাজার টাকার বেশি। এভাবে আর কয়েক দিন চললে তিনি ঋণে ডুবে যাবেন।

একইভাবে ১৪ দিন ধরে নৌজটে আটকে আছে কয়লাবাহী নৌযান নুরজাহান। ১২ দিন ধরে আটকে আছে নৌযান বিসমিল্লাহ।

লাবণ্য নৌযানের চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সুলেমানপুর এলাকাটি স্বাভাবিকভাবে পাড়ি দিতে দুই মিনিট লাগে। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে সুলেমানপুর এলাকায় আটকে আছি। ’ তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নৌকাভাড়া পরিশোধ করতেই আমার বাড়ি বিক্রি করতে হবে। ’

স্থানীয় দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাটলাই নদীর সুলেমানপুর এলাকায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ নৌজটের সৃষ্টি হয়। এরপর বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল না হলে সময় আরো দীর্ঘতর হয়। ২০ বছর ধরে নাব্যতা সংকট দেখা দিলেও এখনো খননের উদ্যোগ নেই। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়। বেকার হয়ে পড়েন হাজারো শ্রমিক।

সুলেমানপুর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী হাবুল মিয়া বলেন, ‘নৌজটে পড়ে আমার ছয় লাখ টাকার মাছ পচে নষ্ট হয়েছে। ’

তাহিরপুর উপজেলা সদর বাজারের বৃহৎ ব্যবসায়ী সমীরণ রায় লিটন বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে ভৈরব থেকে নৌপথে আসা দোকানের মালপত্র নৌজটে আটকে আছে। এতে বেড়েছে পরিবহন খরচ। যথাসময়ে পণ্যও পাচ্ছি না। ’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে এই নৌজট ছাড়াতে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সুলেমানপুর এলাকায় ড্রেজার রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, নৌজট নিয়ে যাতে কোনো পক্ষ চাঁদাবাজি করতে না পেরে, সে জন্য প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ করা হলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, কালই (আজ রবিবার) সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনে এক্সকাভেটর লাগাতে হবে।



সাতদিনের সেরা