kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

পানি সম্মেলনে বক্তারা

পানি এখন কৌশলগত সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পানিকে বর্তমানে শুধু সম্পদ নয়, বরং একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় নদী ভূ-রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। সপ্তম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরিয়াল ফেলো মো. শহীদুল হক।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ‘তিস্তা নদী অববাহিকা : সংকট উত্তরণ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওই ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

শহীদুল হক বলেন, ভূ-রাজনীতিকে শুধু একক লাভের দৃষ্টিতে নয়, উভয়ের জন্য লাভের দৃষ্টিতে দেখতে হবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বিষয়ভিত্তিক প্রসঙ্গ তিস্তা নদীর অববাহিকায় কাঠামোগত হস্তক্ষেপ ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং তিস্তা নদীর অববাহিকা, বাস্তুতন্ত্র ও লৈঙ্গিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

নদীর ওপর বাঁধ বাস্তুসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে জানান সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু। তিনি অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার আহবান জানান।

সম্মেলনে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও এনভায়রনমেন্ট গভর্নড ইন্টিগ্রেটেড অর্গানাইজেশনের পরিচালক জয়ন্ত বসু ‘জিওপলিটিকস অব রিভার তিস্তা অ্যান্ড নিড টু পারসু ন্যাচারাল বেইসড নেগোশিয়েটেড অ্যাপ্রোচ (এনবিএনএ)’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। তাঁর গবেষণাপত্র থেকে উঠে আসে, দক্ষিণ এশীয় আন্তর্দেশীয় নদীর সমস্যাগুলো আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কারণ, এই অঞ্চলের সব দেশ প্রধানত কৃষি, জলবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য কারণে নদীর ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল। এই অঞ্চলে অসম রাজনৈতিক ক্ষমতার উপস্থিতি; আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

জয়ন্ত বসু বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি আন্ত সীমান্ত নদী বয়ে গেলেও সামগ্রিক অববাহিকাভিত্তিক কোনো পদ্ধতি নেই। এ জন্য একটি সামগ্রিক অববাহিকাভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের (বিসিএএস) নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান বলেন, বাঁধ ও পানি ধারণ করে প্রবাহ সীমিত করলে নদীভিত্তিক মানুষের জীবন-জীবিকা ব্যাহত হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তিস্তার মূল্য একেবারেই হারিয়ে গেছে। ’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন, এর কোনো ফলপ্রসূ পরিণতি লক্ষ করা যায় না।



সাতদিনের সেরা