kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন পাসের অপেক্ষায় বঙ্গভবন

বিশেষ প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ পূর্ণ হতে আর মাত্র বাকি ২৫ দিন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এই কমিশনের শেষ কর্মদিবস। তার আগেই নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধান অনুসারে দেশে প্রথমবারের মতো আইন প্রণয়ন এবং সেই আইনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের শূন্য পদে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন। অনুসন্ধান কমিটি এ কাজ সম্পন্ন করতে ১০ দিন সময় পাবেন।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধান কমিটি প্রতিটি পদের বিপরীতে দুজন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে এবং রাষ্ট্রপতি তাঁদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ পাঁজনকে নিয়োগ দেবেন।

গত অনুসন্ধান কমিটি গঠন হয় ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি। এবারও এর কাছাকাছি সময়ে কমিটি গঠন হওয়ার কথা। বঙ্গভবন সংসদে প্রস্তাবিত আইন পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করা হচ্ছে,  আগামী সপ্তাহে আইন পাস এবং এর পরই রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করতে পারেন।  

রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. জয়নাল আবেদীন গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, বঙ্গভবন নির্বাচন কমিশন গঠনের আইনটি সংসদে পাসের অপেক্ষায় আছে। কারণ আইনটি পাস হলে সে অনুসারেই সার্চ কমিটি গঠন করতে হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক গত বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী রবিবার আমি জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত আইনের বিল উত্থাপন করব। করোনা সংক্রমণ আরো ভয়াবহ না হলে আশা করছি আগামী সপ্তাহেই এই আইন জাতীয় সংসদে পাস হবে। ’

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের সার্চ কমিটি এবং এবার আইন অনুসারে গঠিত হতে যাওয়া সার্চ কমিটি, কমিটির দায়িত্ব ও কার্যপরিধি একই থাকার পরও পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার রাষ্ট্রপতির সংলাপে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি। গতবারের মতো এবার অনুসন্ধান কমিটি যোগ্য ব্যক্তিদের অনুসন্ধানে অংশীজনের  সহযোগিতা পাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

গতবার দলগুলো ১২৫ জনের তালিকা দেয়: গতবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া ৩১টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঁচজন করে ব্যক্তির নাম চেয়েছিল। এর মধ্যে ২৭ দলের সাড়া মেলে। ওই দলগুলোর কাছ থেকে মোট ১২৫ জনের নাম পাওয়া যায়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি (রব) সার্চ কমিটিকে নামের তালিকা না পাঠিয়ে কেন পাঠানো হয়নি তা জানিয়ে চিঠি দেয়।  

সে সময় মন্ত্রিপরিষদসচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া  ১২৫টি নাম থেকে কমিটির সদস্যরা ২০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছেন। তবে তা প্রকাশ করা হবে না। অনুসন্ধান কমিটি চাইলে সংক্ষিপ্ত ২০ জনের বাইরেও নিজেদের অনুসন্ধান থেকে আরো নাম অন্তর্ভুক্ত করে তাদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারে।

এরপর ২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ  হোসেন চৌধুরীকে নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ দেন। তাঁরা ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন এবং সেই দিনই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।



সাতদিনের সেরা