kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

মাস্ক নেই ৭৫ শতাংশ মানুষের

রেড জোন দিনাজপুর

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈশ্বিক মহামারি করোনার লাল অঞ্চলের তালিকায় রয়েছে দিনাজপুর জেলা। কিন্তু এখানে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না কেউ। শহরে ব্যাপক জনসমাগম ঘটছে, নেই শারীরিক দূরত্ব। আর মাস্কও ব্যবহার করছে না ৭৫ শতাংশ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ২১.৬৩ শতাংশ। জেলায় বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা ১৭৮ জন। এর মধ্যে সদরে ১৪৪ জন। শনাক্তের সংখ্যা বিবেচনায় রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে দিনাজপুর। এখানে ১৫ হাজার ৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

গতকাল দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার মোড় ও স্টেশন সড়কে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় পার করছে শহরে আসা মানুষ। এদের বেশির ভাগের মুখে নেই মাস্ক। মানুষের চলাচলও স্বাভাবিক। মার্কেটের দোকানগুলোতেও রয়েছে উপচে পড়া ভিড়।

বাহাদুর বাজার মোড়ের ফল ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে কেউ মানছে না। পুলিশের উপস্থিতি দেখে তাড়িঘড়ি মুখে মাস্ক লাগিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে অনেকে। এরপর একটু দূরে গিয়ে তারা মাস্ক খুলে উন্মুক্ত হয়ে বেড়াচ্ছে।

দিনাজপুর স্টেশনে কথা হয় টিকিট নিতে আসা শিক্ষক মো. কায়সার আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কে শোনে কার কথা? করোনাভাইরাসের নতুন ধরন খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। বাজার স্টেশনসহ সব জায়গায় যে অবস্থা, তা দেখে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। খুব দ্রুত কাজ সেরে সেখান থেকে বের হয়েছি। ’

শহরের বাহাদুর বাজারে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথের প্রহরী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘কেউ মাস্ক পরছে না। প্রতি চারজনে একজন হয়তো মাস্ক ব্যবহার করছে। ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছি। ’

এদিকে অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। এক দিনে এক হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শীতের মধ্যে সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

একজন অভিভাবক জানান, সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে সকাল ৯টায় এসে পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ২টায় টিকা দিতে পেরেছেন। এখানে কোনো নিয়ম-নীতির বালাই নেই।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক খালিদ মোহাম্মদ জাকি ও পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শহরে ঘুরে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করেন।

সিভিল সার্জন ডা. এ এইচ এম বোরহান-উল ইসলাম সিদ্দিকি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অনীহা, এক স্থানের মানুষ অন্য স্থানে যাতায়াত, মাস্ক না পরাসহ বিভিন্ন কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। ’



সাতদিনের সেরা