kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বনভূমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ এবং অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি)। আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সরকার নির্ধারিত দ্রব্যমূল্য ঠিক রাখতে কঠোরভাবে তদারকিও করতে হবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, বস্ত্র ও পাট, প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, শিল্প, বাণিজ্য, জনপ্রশাসন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা।

বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার ডিসি সম্মেলন শুরু হয়। আজ বৃহস্পতিবার সম্মেলন শেষ হবে।

সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষার জন্য টিলা কাটা, পাহাড় কাটা, বৃক্ষ নিধন—এগুলোকে বন্ধ করার জন্য উনারা (ডিসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। বনভূমি যাতে কোনো অবৈধ দখলদার দখল করতে না পারে এবং অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার বিষয়ে আমরা তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছি। প্রাণী সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্যের কথাও তাঁদের বলা হয়েছে। ’ বনভূমি রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে—২০৩০ সালের মধ্যে ১৬ শতাংশ বনভূমি গড়ে তোলা। এসডিজি অর্জনের জন্য ১৬ শতাংশ আচ্ছাদিত বন আমাদের দেখাতে হবে। ১৬ শতাংশ বনায়নের জন্য আমরা ডিসিদের সহযোগিতা চেয়েছি। বর্তমানে ১৪.১ শতাংশ বন রয়েছে। সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে আমরা তো ২২ শতাংশের ওপরেই আছি। ’

অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইটের পরিবর্তে ব্লক প্রস্তুত করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি। ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি স্থাপনায় শতভাগ ব্লক ইট ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আমরা যখন শতভাগ ব্লকে যাব তখন এমনিতেই ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাবে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে গিয়ে ডিসিদের কোনো সমস্যা হবে বলে আমরা মনে করি না। পুলিশ প্রশাসন তাঁদের সঙ্গে থাকবে। ’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের অধিবেশন শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম সাংবাদিকদের বলেন, ওমিক্রন এসেছে। খুব বেশি ছড়াচ্ছে। ডিসিরা আগে যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, আগের মতো এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলা পর্যায়ে যাতে সব কার্যক্রম পরিচালিত হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য হাসপাতাল করতে তিনটি বিভাগ থেকে প্রস্তাব পেয়েছি। বিভাগীয় পর্যায়ে হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা এটি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি, এর কার্যক্রম চলমান আছে। ’

আলী আজম আরো বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে পরিকল্পনা উন্নয়ন শাখা গঠনে আইএমইডি (বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের যেহেতু জেলা পর্যায়ে অফিস নেই, তাদের পক্ষে ডিসিরা যাতে এই কার্যক্রম মনিটর করেন, সে জন্য একটি শাখা গঠন করার জন্য। ’

পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি ফাইল ঝুলে আছে। এ বিষয়ে সচিব বলেন, ‘হয়তো পেন্ডিং আছে, পর্যালোচনা করে দেখব। ’ ‘আইএমইডি থেকে প্রস্তাব আছে, যত দিন পর্যন্ত তাদের জনবল না থাকে তত দিন পর্যন্ত ডিসিদের মাধ্যমে আপাতত মনিটরিং কার্যক্রম করার জন্য। সে জন্য সেখানে যে জনবল আছে তাদের নিয়ে একটি শাখা গঠনের জন্য প্রস্তাব করেছি। ’

তৃতীয় শ্রেণির সব ধরনের পদে নিয়োগের জন্য সিলেকশন বোর্ড গঠনে ডিসিদের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণির সব ধরনের পদে নিয়োগের জন্য সিলেকশন বোর্ড গঠন করা আছে। কোনো বিভাগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নিয়োগ ছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণির যেসব নিয়োগ হবে, সেখানে বিভাগীয় সিলেকশন বোর্ড করবে। ’

বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘সার ডিলাররা মজুদ করেছিলেন। আমরা তাঁদের নিয়ে মিটিং করি। দেশে যে সার উৎপন্ন হয় তা যথেষ্ট নয়, এ জন্য সার আমদানি করতে হয়। ’ মন্ত্রী বলেন, ‘সার চোরাচালান যাতে না হয় এবং ডিলারদের কাছ থেকে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে নিতে না পারেন সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ডিসিরা মনিটরিং করবেন। মজুদ ঠিক আছে কি না এবং সঠিকভাবে তা বিতরণ করছে কি না ডিসিরা তা দেখবেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) নিয়ে আমরা বলেছি, যেসব প্লট অনেকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রেখে দিয়েছে, সেগুলো নতুন করে যোগ্য ব্যক্তিদের দেওয়া হবে। প্রতিটিকে উৎপাদনমুখী করার জন্য কাজ চলছে। যেগুলো অনেক দিন ধরে পড়েছিল সেগুলো নতুন করে করা হচ্ছে। নতুন কিছু বিসিকও করা হয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা