kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

ফুটপাতে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুটপাতে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি

রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশে ফুটপাত দখল করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল নগরীর ঘোড়া চত্বর থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফুটপাতে ইট, বালু ও পাথর স্তূপ করে রাখা। আছে আসবাব, পোশাকসহ নানা পণ্যের দোকান। প্রভাবশালীদের চাঁদা দিয়ে বসা এসব দোকান উচ্ছেদ করলেও ফের বসে। তাই রাজশাহী সিটি করপোরেশন নাগরিকদের হাঁটার নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা দিতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

দোকানপাটের কারণে বাধ্য হয়ে মানুষ ফুটপাত ছেড়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। আর তাতে দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। সর্বশেষ গত ১৩ জানুয়ারি ফুটপাত ছেড়ে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম (৭০) মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। নগর ভবনের পশ্চিম পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি এখন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর সাহেব বাজার, সোনাদীঘির মোড়, নিউ মার্কেট এলাকা, আলুপট্টি, লক্ষ্মীপুর, উপশহর, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাত দখল করে আছেন ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা। সাহেববাজারের ফুটপাতগুলো কেউ ফলের দোকান সাজিয়ে, কেউ কাপড়ের দোকান সাজিয়ে, কেউ জুতার দোকান কেউবা চায়ের দোকান তুলে বসেছেন। ফুটপাতে পা ফেলার কোনো জায়গা নেই। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের কাদিরগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ পাশের রাস্তার ওপরে কয়েকজন শ্রমিক বালু, সিমেন্ট ও ইটের খোয়া মিশিয়ে পাশের একটি ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। রাস্তার দক্ষিণ পাশের ফুটপাতটিও দখল করে রাখা হয়েছে ইট ও খোয়া দিয়ে।

এদিকে নিউ মার্কেট এলাকার পূর্বপাশের ফুটপাতে জুতা ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা দোকানপাট তুলেছেন। কয়েক বছর আগে এগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, এখন তারা প্রতি মাসে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দেড় থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেন।

সাহেববাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা করে দিতে হয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের। এই টাকা তুলে নিয়ে যায় কমিউনিটি পুলিশের লোকজন। আর স্থানীয় কয়েকটি বাহিনী আছে তারা মাসে একবার হলেও আসবে বিভিন্ন ইস্যুতে টাকা নিতে। ’

ফুটপাতের দোকানিরা জানান, লক্ষ্মীপুরে চাঁদা তোলেন মামুন ও রিপন নামের দুই যুবক। তাঁদের মধ্যে মামুন দাবি করেন, তাঁরা লক্ষ্মীপুর বাজার ইজারা নিয়েছেন। তাই তারা দোকান থেকে টাকা উত্তোলন করেন। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, ফুটপাতের দোকান এমনকি কম্পানির গাড়ি দাঁড়ালেও ৪০ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হয়।

এদিকে সাহেববাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সোহেল নামের এক যুবক টাকা তোলেন।

নগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টাকা তোলেন সুজন নামের এক যুবলীগ কর্মী। তবে সুজন সেটি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি দোকান থেকে কোনো টাকা তুলি না। ’

নগরীর শিরোইলের ফুটপাত থেকে চাঁদা তোলেন শুকুর নামের এক যুবক। তিনি দাবি করেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি নিয়েই ফুটপাতের দোকান থেকে টাকা তোলা হয়। ’

ফুটপাত ছেড়ে অটোরিকশার ভিড় ঠেলে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কথা হয় নাইমা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা নারী। এমনিতেই পথ চলতে নানা বাধা। এর মধ্যে গাড়ির ভিড় ঠেলে চলাচল করতে হচ্ছে। কারণ ফুটপাত ধরে হাঁটার কোনো উপায় নেই। ’

জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদার টাকার ভাগ পুলিশ পায়, এটা আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। ’

রাজশাহী নগর সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বারবার অভিযান চালিয়েও ফুটপাত দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। ’



সাতদিনের সেরা