kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

খেজুরের পাটালিতে চিনির ভেজাল

রাজশাহীতে বেশি লাভের আশায় ভেজাল মেশান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেজুরের পাটালিতে চিনির ভেজাল

রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর হাট খেজুরের গুড়ে সরব। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘এখন আর কোনো পাটালি গুড় শতভাগ খাঁটি পাওয়া যায় না। পাটালি সব গুড়েই চিনি মেশানো থাকে। কোনটাতে কম আর বেশি। একমাত্র ঝোলা বা লালি গুড় ভেজালমুক্ত।

বিজ্ঞাপন

’ গতকাল সোমবার রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আমগাছী হাটের ব্যবসায়ী আকবর আলী এ সব কথা বলেন।

এখানে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। মূলত খেজুরের গুড়ের জন্য এই হাট ব্যবসায়ীদের কাছে পরিচিত। শীতের এই মৌসুমে আমগাছী বাজারের আশপাশের গ্রাম থেকে প্রচুর পরিমাণে গুড় এসে জড়ো হয়। গতকাল সকাল থেকে গুড় কেনাবেচা শুরু হয়। সবমিলিয়ে অন্তত ২০ লাখ টাকার গুড় কেনাবেচা হয়েছে।

এ বাজারে গুড় বেচতে আসা পলাশবাড়ী গ্রামের আবু বক্কার বলেন, ‘এখন পাঁচ কেজি গুড়ে অন্তত ১০ কেজি চিনি মেশানো হয়। তাতে পাঁচ কেজি গুড় হয়ে যাচ্ছে ১৫ কেজি। প্রতি কেজিতে অন্তত ৪০ টাকা বেশি লাভ হচ্ছে। এক কেজি গুড় গতকাল এই বাজারে বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে। সেই হিসেবে একজন বিক্রেতা ছয় কেজি গুড় বিক্রি করলেও তাতে মেশানো হয়েছে অন্তত চার কেজি চিনি। বাজারে প্রতি কেজি চিনি পাওয়া যাচ্ছে ৭৫-৮৩ টাকা দরে। কিন্তু সেটি গুড় করা হলে বিক্রি হচ্ছে অন্তত ১২০ টাকায়। তাই খেজুরের পাটালি গুড় মানেই চিনির গুড় হয়ে গেছে।

আরেক বিক্রেতা মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন খাঁটি গুড় নিয়ে এলেও তেমন দাম পাওয়া যায় না। তাই সবাই গুড়ে চিনি মিশিয়ে বেশি করে বাজারে আনে। এতে লাভ বেশি হয়। ’

ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, ‘এখন আর রাজশাহীর কোনো বাজারে খাঁটি খেজুর গুড় পাওয়া যায় না। সব বাজারেই চিনি মিশ্রিত গুড় বিক্রি হয়। এর পরও খেজুর গুড়ের চাহিদা শীতের সময় বেশি। ’ তবে তিনি জানান, আগের মতো পাটালি গুড় বেশিদিন ক্রেতারা ঘরে রাখতে পারছেন না। তাতে গুড়ে শেওলা ধরে যাচ্ছে। খাঁটি গুড় মাসের পর মাস রাখলেও সহজে শেওলা ধরে না।

রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজারের গুড় ব্যবসায়ী নাসিমুল ইসলাম বলেন, ‘গুড় তো বিক্রি করাই দায় হয়ে গেছে। বাজার থেকে গুড় কিনলেই তাতে চিনি মেশানো থাকছে। তবে একেবারে গ্রাম থেকে অর্ডার করে খাঁটি গুড় আমরা কিছু সংগ্রহ করি। যেসব ক্রেতা ভালো মানের গুড় খোঁজেন, তাঁদের সেই গুড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যাঁরা কম দামের গুড় খোঁজেন, তাঁদের বাজার থেকে কেনা গুড় দিচ্ছি। আবার কিনে নিয়ে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, এসে অভিযোগ করছে সাদা সাদা শেওলা পড়েছে। ’

রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার দিদারুল ইসলাম জানান, তিনি রাজশাহীর সাহেববাজার থেকে দুই কেজি খেজুর গুড় কিনে আনেন চার-পাঁচ দিন আগে। মেয়ের জামাই আসবেন, তাঁদের পিঠা-পুলি খাওয়াবেন। কিন্তু দুই দিন পরে সেই গুড় বের করে দেখেন, তাতে শেওলা জমে গেছে। অগত্যা সেই শেওলা তুলে নিচের অংশ দিয়ে পিঠা বানিয়ে খান তাঁরা। কিন্তু আগের মতো গুড়ের পিঠার স্বাদ ছিল না।

ভেজাল গুড়ের স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হবে কি না, জানতে চাইলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন আবু সাইদ বলেন, ‘শুধু চিনি মেশালে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে এর সঙ্গে যদি অন্য কোনো রাসায়নিক মেশানো হয়, তাহলে পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের রোগবালাই হতে পারে। ’



সাতদিনের সেরা