kalerkantho

বুধবার ।  ২৫ মে ২০২২ । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩  

ইভিএম বিভ্রাটে জটিলতায় ভোটাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক নারায়ণগঞ্জ থেকে   

১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাসদাইরের বাসিন্দা লাভলী আক্তার আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে সকাল ১০টায় ভোট দিতে আসেন। লাইনে ভিড় না থাকায় অল্প সময়েই বুথে প্রবেশ করেন। তবে আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট দিতে পারছিলেন না তিনি। এ সময় সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা তাঁর আঙুলে ভ্যাসলিন লাগিয়ে আবারও ভোট দিতে বলেন।

বিজ্ঞাপন

তাতেও বিফল হন তিনি। পরে দুই দফা সাবান দিয়ে হাত ধুয়েও আঙুলের ছাপ মেলাতে পারেননি লাভলী।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা চেষ্টা করলাম, ভোট দিতে পারলাম না। মনে করছিলাম, নতুন মেশিন আইছে, সহজেই ভোট দিতে পারব। কিন্তু এবারের ভোটটাই দিতে পারলাম না। ’

লাভলী আক্তারের মতো আরো অনেকে গতকাল রবিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম বিভ্রাটে ভোট দিতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ভোটাররা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

আদর্শ স্কুল কেন্দ্রের নির্বাচন কর্মকর্তা শামছুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশেষ করে নারীরা যাঁরা বেশি পানির কাজ করেন বা কাটাকাটি করেন তাঁদের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ মিলতে চায় না। আবার যাঁরা সব সময় হাতের আঙুলে চুন রাখেন তাঁদেরও সমস্যা হয়। আমরা প্রথমে তাঁদের হাত পরিষ্কার করে আঙুলের ছাপ দেওয়ার চেষ্টা করি। এতে মোট ভোটারের ১ শতাংশের ছাপ না মিললেও ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে পারি। ’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আগের নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ইভিএম ব্যবহার করা হয়। এবারের নির্বাচনে সিটির ২৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের এক হাজার ৩৩৩টি বুথে ইভিএমে ভোট হয়েছে। একাধিক ভোটকেন্দ্র ঘুরে ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী শিশুবাগ বিদ্যালয়ে ইভিএমে ভোট দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলীর একটি কেন্দ্রে ইভিএম নষ্ট হওয়ার খবরও তিনি পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে কোথাও কোথাও ভোটারের উপস্থিতি কম দেখে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, ‘ইভিএমভীতির কারণে হয়তো মানুষ কম। ’

সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, ইভিএম নিয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। অনেকের বুঝতে অসুবিধা হলেও সেই সমস্যা সমাধান করে স্বাভাবিকভাবেই ভোট নেওয়া হয়েছে।

বন্দর থানার বনগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে বৃদ্ধ লুৎফর রহমানের আঙুলের ছাপ নিতে পারছিল না ইভিএম মেশিন। ৭৯ বছর বয়সী আছিয়া বেগম নাতির কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে এসেও ভোট দিতে পারেননি। তাঁরও একই অভিযোগ, ইভিএম আঙুলের ছাপ নিচ্ছে না। তবে জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক তরুণী জানান, ইভিএমের মাধ্যমে তিনি সহজেই ভোট দিতে পেরেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদরের মর্গান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাদশা বলেন, ‘ভোটাররা ভোট দিতে অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছেন। বাইরে থেকে বলে দেওয়ার পরও তাঁরা বুঝতে পারছেন না। আবার অনেকে আছেন এক মিনিটের মধ্যে ভোট কাস্ট করে চলে যাচ্ছেন। ’

কেন্দ্রের ১ নম্বর বুথে ভোট দিতে এসেছিলেন প্রতিমা রানী। তিনি দুই দফায় চেষ্টা করেও ভোট দিতে পারেননি। কারণ তাঁর আঙুলের ছাপ মিলছিল না। এই প্রক্রিয়ায় কেটে যায় ১০ মিনিট। পরে নির্বাচন কমিশনের অপারেটর এসে প্রতিমা রানীর ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি পাইনাদী ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে দুপুরে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বুথের সামনে দাঁড়িয়ে এক নারীকে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে ভোট দিতে দেখা গেছে। বের হওয়ার পর রেহানা বেগম নামের ওই মধ্যবয়সী ভোটার বলেন, ‘কেমনে কী করতে হবে কিছু বুঝি না। একজন পরে ঢুইকা দেখাইয়া দিছে। আমরা এই সব কি পারি!’

একটি বুথের সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নারী ভোটারদের হাতের সমস্যার কারণে মূলত ভোটগ্রহণে বেশি দেরি হচ্ছে। তাঁদের হাতের রেখা উঠে যাওয়ায় ফিঙ্গারিং মিলছে না। ’



সাতদিনের সেরা