kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাজধানীর নির্মাণাধীন ভবনে লাশ উদ্ধার

বিয়ের তিন দিন পর নিখোঁজ হন ওই যুবক

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগে ঢাকায় খুব একটা আসেননি তিনি। গ্রামেই থাকতেন। বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করতেন। অতি সম্প্রতি ব্যাপক আয়োজন করে তাঁর বিয়ে দেয় পরিবার।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর লাশ উদ্ধার হয় রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজের ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনের পাঁচ তলায়।

নিহত এই যুবকের নাম রুবেল মিয়া (২৩)। লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের খলাইঘাট গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে। এই যুবকের কোনো শত্রু ছিল না বলে পরিবার ও গ্রামের লোকজন জানিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও এমনটি উঠে এসেছে।

এর পরও লালমনিরহাট থেকে কিভাবে তিনি ঢাকায় এলেন, তাঁর লাশ ওই নির্মাণাধীন ভবনে কিভাবে নেওয়া হলো, নাকি ওই ভবনে তাঁকে নেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা জড়িত কি না—এমন অনেক প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গতকাল শনিবার দারুসসালাম থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, এই হত্যার বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। তাঁর বাড়ি লালমনিরহাট, আর লাশ মিলল ঢাকায়। ঘটনাটি খুবই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ধরে তদন্ত করছে পুলিশ। সূত্র জানিয়েছে, ঘটনা তদন্তে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের তিন দিন পর গত ৫ জানুয়ারি লালমনিরহাট রাজাপুর বাজারে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন রুবেল মিয়া। তারপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ৫ জানুয়ারি রুবেল একটি বাইকে রংপুরে মামাবাড়ির দিকে রওনা হয়েছিলেন। এরপর তিনি নিখোঁজ হন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের ২ জানুয়ারি একই এলাকার আপিয়ার রহমানের মেয়ে সার্জিয়া খাতুনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে রুবেল মিয়ার বিয়ে হয়। এরপর ৫ জানুয়ারি শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য তিনি দাড়ি কামাতে গ্রামের বাজারের একটি সেলুনের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। আর ফিরে আসেননি। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গত ৬ জানুয়ারি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর লাশ উদ্ধার হয় রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজের ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনের পাঁচ তলায়। পুলিশ জানায়, যুবকের পরনে ছিল জিন্সের প্যান্ট আর লাল রঙের শার্ট। গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভবনটি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে কলেজের নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশে খবর দেন। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। গতকাল দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের একটি কবরস্থানে রুবেল মিয়ার লাশ জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

রুবেলের বাবা নুরুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রুবেল আমার একমাত্র ছেলে। আমার সঙ্গে কৃষিকাজ করত। খুব আদরের ছিল ছেলেটি।



সাতদিনের সেরা