kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ঘটছে সব নৃশংস ঘটনা

পিরোজপুর সংবাদদাতা   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ঘটছে সব নৃশংস ঘটনা

পিরোজপুরে যুবলীগকর্মী নাদিমের হাতের কবজি কেটে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সদর উপজেলা যুবলীগের সংবাদ সম্মেলন। ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা আর প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই কদমতলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পরও একের পর এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটছে। সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে যুবলীগকর্মী নাদিম খানের কবজি কর্তনের ঘটনায় গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কদমতলা ইউনিয়নে যুবলীগকর্মী নাদিম খানের কবজি কর্তন করা হয়। শনিবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব।

বিজ্ঞাপন

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মল্লিক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিকদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম মিরন, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাদুল্লাহ লিটন, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মানিক, কদমতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যুবলীগকর্মী নাদিম খানকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় কদমতলা ইউপির চেয়ারম্যান শিহাব হোসেন, তাঁর ছোট ভাই ফারুক হোসেন, ভাতিজা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বায়েজীদ হোসেনসহ ৩২ জনকে নামীয় এবং ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নাদিম খানের ফুফু তামান্না বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ মামলার ৬ নম্বর আসামি মিজান হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি কদমতলা ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ. জা. মো. মাসুদুজ্জামান ছয়-সাত মাস ধরে সদর উপজেলার বিভিন্ন সহিংস ঘটনার বিষয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সরকারদলীয় কর্মীরা কোনো ব্যাপারে তাঁর কাছে গেলে সব সময় হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ নভেম্বর সদর উপজেলার শংকরপাশায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে পিরোজপুর পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহবুব নিহত হন। ১২ ডিসেম্বর সিকদার মল্লিক ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য রুহুল আমিন শেখকে (৪৫) শিহাব হোসেনের ভাই ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন কদমতলায় পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেয়। তখন থানায় মামলা দিতে গেলে ওসি মাসুদুজ্জামান মামলা নেননি। এমনকি আদালতের নির্দেশে মামলা নিলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। মামলার সঠিক তদন্ত হয়নি। ফলে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। ’ তিনি বলেন, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে পুলিশ শিহাব হোসেনের প্রতি দুর্বল।

সংবাদ সম্মেলনে কদমতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খান বলেন, এ পর্যন্ত কদমতলা ইউনিয়নে ১০ থেকে ১২টি মামলা হয়েছে। বেশির ভাগ মামলায়ই কদমতলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সিহাব হোসেন আসামি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ মামলা নেয় না। কোনোভাবে মামলা হলেও ধারা পাল্টে দিয়ে আসামি ধরে না পুলিশ। উল্টো আসামিদের মদদ দেয়। কোনো এক অদৃশ্য শক্তির নিয়ন্ত্রণে থেকে পুলিশ কাজ করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি করা একটি হত্যা মামলায় চেয়ারম্যান শিহাব হোসেন জেলে যান। বর্তমানে জামিনে আছেন তিনি।



সাতদিনের সেরা