kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দুই ভাগ হচ্ছে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস

ওমর ফারুক   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা শামসুল হক গত মঙ্গলবার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলেন ই-পাসপোর্ট করতে। কিন্তু ই-পাসপোর্ট কিভাবে করতে হয় তিনি তা জানেন না। এ কারণে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যখন ঘুরছিলেন তখন একজন এসে তাঁর পাসপোর্ট করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন। এক হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি পাসপোর্ট ফরম পূরণ থেকে শুরু করে ব্যাংকে ফি জমা দেওয়াসহ সব কাজ করে দেবেন বলে জানান। 

শামসুল হক কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি একটি মুদি দোকান চালান। ব্যবসা করে না পোষানোয় বিদেশে শ্রমিক হিসেবে যেতে চান। এ কারণে তাঁর পাসপোর্ট দরকার। শামসুল বলেন, ‘ওই লোক (দালাল) বলেছে এক মাসের মধ্যে পাসপোর্ট করে দেবেন। আমি যখন পারছি না তখন এ ছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না। এ কারণে দালাল জেনেও কাজটা দিয়েছি।’

জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দালাল এখন অনেক কমেছে। আসলে অনেকেই আছেন, যাঁরা পাসপোর্ট করতে এসে বুঝতে পারেন না কিভাবে ফরম পূরণ করবেন, কিভাবে ব্যাংকে ফি জমা দেবেন। এসব কারণে কিছু লোক সহযোগিতা করার কথা বলে এগিয়ে এসে তাঁদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে কাজটি করে দেয়।’ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ই-পাসপোর্ট হওয়ার পর থেকে দালাল অনেক কমে গেছে। সিস্টেমের কারণে এখন আর রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ নেই। এখন যেটা হয়, সিরিয়াল আগে পরে নেওয়ার জন্য দালালরা চেষ্টা করে। এটাও রোধ করা হচ্ছে।’

এজেন্ট নিয়োগ নীতিমালা হচ্ছে : পাসপোর্ট আবেদনকারী অনেকে নিজেরা ফরম পূরণ করতে পারে না, অনলাইনে ফরম পূরণেও অভ্যস্ত নয় অনেকে। অনেকে আবার পাঁচ-ছয় বছর পর নবায়ন করতে গিয়েও ভুলে যায় নিয়ম-কানুন। ফলে তাদের সাহায্য লাগে। এই সাহায্যকারী হিসেবে এজেন্ট নিয়োগের জন্য সরকারের তরফ থেকে একটি নীতিমালা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে এজেন্ট নিয়োগ করা হলে তাঁরা আবার দালালদের মতো হয়ে যান কি না, সেটাও ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এক কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলেন, দলিল লেখকরা যেমন জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন। তেমনি এজেন্ট নিয়োগ হলে তাঁরা নির্ধারিত একটি ফির বিনিময়ে পাসপোর্ট তৈরির কাজে সহায়তা করতে পারবেন। একটি পাসপোর্টের জন্য এজেন্টকে কত দিতে হবে, সেটাও নীতিমালায় উল্লেখ করা থাকবে। ফলে পাসপোর্ট গ্রাহককে ভোগান্তিতে ফেলার সুযোগ নেই। 

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাসপোর্ট অফিসে কে দালাল কে দালাল নয়, সেটা তো চিহ্নিত করা যায় না। যদি এজেন্ট থাকে, তাহলে তার একটা পরিচয় থাকবে। কোনো সমস্যা হলে তাকে ধরা যাবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। মানুষের সুবিধার জন্যই এটা করার চিন্তা।’

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এজেন্ট নীতিমালার বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। এখন এক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। আবার এজেন্ট নিয়োগ করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এজেন্ট নিয়োগ করার পর তাঁরা যদি আবার দালালদের মতো হয়ে যান, তাহলে আরেকটা ঝামেলা তৈরি হবে।’ 

দুই ভাগে বিভক্ত হচ্ছে আগারগাঁও অফিস : প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার লোক আসে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মানুষকে গিজগিজ করতে দেখা যায়। তথ্য জানতে চাওয়াসহ নানা কাজে প্রতিদিন আগারগাঁওয়ের অফিসে যায় মানুষ। এ অবস্থায় সরকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসকে দুই ভাগ করতে যাচ্ছে। মো. মোকাব্বির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগারগাঁও অফিসকে দুটি ভাগ করে উত্তর ও দক্ষিণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ দুটি অফিস চালু করলে সেখানকার চাপ কমে যাবে বলে তাঁরা মনে করেন।



সাতদিনের সেরা