kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নারীবান্ধব বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ছে ‘জয়িতা’

নিখিল ভদ্র   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অফিসে কাজের ফাঁকে সহকর্মীদের নিয়ে চটজলদি দুপুরের খাবার, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খাবার খেতে খেতে দল বেঁধে আড্ডা, কিংবা বন্ধুদের নিয়ে বৈচিত্র্যময় খাবার চেখে দেখতে এখন পছন্দের শীর্ষে জয়িতা ফুড কোর্ট। রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৭-এর মাথায় মিরপুর রোডের ওপর রাপা প্লাজার পঞ্চম তলায় এই ফুড কোর্ট।

এই শীতে যদি সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রন্ধনশৈলীর চিতই পিঠা, হাঁসের মাংস, খিচুড়ি কিংবা নানা পদের ভর্তা দিয়ে দুপুরের খাবার খেতে ইচ্ছা করে, তবে বেছে নেওয়া যায় জয়িতা ফুড কোর্ট। খাবার শেষে রয়েছে ফ্লোরজুড়ে পছন্দের বিচিত্র সামগ্রী সংগ্রহের ব্যবস্থাও। ফ্লোরটি সাজানো হয়েছে তৃণমূলের ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি দেশি পণ্যের বিশাল সমাহারে।

জাতীয় সংসদ ভবনেও পাঁচ বছর ধরে সেবা দিচ্ছে জয়িতা ফুড কোর্ট। জয়িতার বিশেষত্ব, এখানকার সব কর্মী নারী। তৃণমূল থেকে আসা বিক্রয়কর্মীরা একই ইউনিফর্মে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এখানে সেবা দেন। তবে অধিবেশন চললে এই সময় প্রলম্বিত হয় অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

‘জয়িতা’ একটি স্বপ্নের নাম। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১১ সালে গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তারা সমিতির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোয় কাজ করছেন। দেশব্যাপী গড়ে তোলা হচ্ছে নারীবান্ধব বিপণন নেটওয়ার্ক। সম্প্রতি শুরু হয়েছে ই-জয়িতা কার্যক্রম। এর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোতে নারীদের সম্পৃক্ত করতে এই উদ্যোগ। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন পদক্ষেপের এটি একটি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর তিন বছর মেয়াদি ‘জয়িতা’ কর্মসূচি হাতে নেয়। এরপর ‘জয়িতা’ ধারণাটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শিরোনামে নতুন কার্যক্রম শুরু করে। ফলে জয়িতার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দেশব্যাপী নারীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুরুতে রাজধানীতে তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি করা পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে গড়ে তোলা হয় জয়িতা ফাউন্ডেশন। এই জয়িতা ফাউন্ডেশন এখন তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানমণ্ডির রাপা প্লাজার দুটি ফ্লোরে গড়ে তোলা হয়েছে জয়িতা বিপণন কেন্দ্র। সেখানে ৬৪ জেলার ১৪০ জন নারী উদ্যোক্তা সুযোগ পেয়েছেন পণ্য বিপণনের। জয়িতাকে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ২০১৯ সালে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বিনির্মাণ’ প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এই প্রকল্পের আওতায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সক্ষমতা, অবকাঠামো সক্ষমতা, ব্যবসা উদ্যোগ উন্নয়ন সক্ষমতা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন সক্ষমতা, সংস্কার ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা তৈরি করা হবে।

জয়িতার কার্যক্রম বিভাগীয় সদর ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করা হচ্ছে। ডিজিটাল সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের বিশাল পণ্যের সমাহার নিয়ে চালু হয়েছে ভার্চুয়াল শপ ই-জয়িতা। এর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা তাঁদের পণ্য খুব সহজে বিক্রি করতে পারছেন। তাঁদের পণ্য বিপণন, সম্প্রসারণ ও প্রমোশনে খোলা হয়েছে ফেসবুক পেজও। ভবিষ্যতে জয়িতা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর করারও পরিকল্পনা রয়েছে। করোনাকালে প্রণোদনা হিসেবে সরকার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় জয়িতা ফাউন্ডেশনের অনুকূলে।

জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান বলেন, ‘এরই মধ্যে দেশজুড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জয়িতা ফাউন্ডেশন। তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নারীবান্ধব ভৌত বাজার কাঠামো গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করছি। এর মাধ্যমে বহুমুখী ব্যবসায় উদ্যোগে নারীদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে।’

সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা স্কাসের চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা বলেন, ‘অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীকে যুক্ত করতে একটি অনন্য উদ্যোগ জয়িতা। এর সহায়তা নিয়ে তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে যাচ্ছে।’



সাতদিনের সেরা