kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শতবর্ষী ভবন ভাঙার উদ্যোগে উদ্বেগ

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শতবর্ষী ভবন ভাঙার উদ্যোগে উদ্বেগ

যশোর রোডের ঐতিহ্যবাহী ভবন। ছবি : কালের কণ্ঠ

১৯৭৫ সালের ১৪ মার্চ প্রাচীন স্থাপনাটি দেখতে গিয়েছিলেন স্বয়ং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসান, কবি জসীমউদ্দীন ও লেখক নীলিমা ইব্রাহিম। একসময়ের পূর্ববঙ্গে চিত্রশিল্প শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তাঁরা স্থাপনাটি সংরক্ষণ করার তাগিদ দিয়েছিলেন সেদিন।

ওপরে যে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির কথা বলা হলো তা খুলনা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী মহেশ্বরপাশা আর্ট স্কুলের প্রথম দিকের ভবন। ১৯০৪ সালে শিল্পী শশীভূষণ পাল এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে আলোচ্য ভবনটি ১৯২৯ সালে নির্মিত। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে শতবর্ষী এই ভবনটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুলনার নাগরিক সমাজ ঐতিহ্যবাহী ভবনটি না ভেঙে সংস্কার তথা প্রয়োজনে পাশে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি প্রাচীন ভবনটি আর্ট গ্যালারি হিসেবেও গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথমে আর্ট স্কুলটি গড়ে উঠেছিল লোয়ার যশোর রোডের পূর্ব পাশে। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর ১৯১৮ সালে সরকারের স্বীকৃতি মেলে। ১৯২৯ সালে বিদ্যালয়টি রাস্তার পশ্চিম পাশে স্থানান্তরিত হয়। এটি চার বছরের ‘ডিপ্লোমা ইন ফাইন আর্ট’ সার্টিফিকেট দিত। ১৯৪৭ সালের পর এর নাম হয় শশীভূষণ আর্ট কলেজ। পরে পর্যায়ক্রমে এটি খুলনা আর্ট কলেজ এবং শেষ পর্যন্ত স্থানান্তরিত হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে পরিণত হয়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা এ বিষয়ে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শশীভূষণ এ অঞ্চলের কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব। তিনি সর্বপ্রথম এ বাংলায় চিত্রশিল্প বিদ্যালয় স্থাপন করেন। বিশেষ ব্যক্তিত্বের স্মারক নিদর্শন হিসেবে স্থাপনাটি সংরক্ষণ করে ট্যুরিজম অ্যাক্ট ২০১০-এর ৩১ নম্বর আইন অনুযায়ী সম্ভাবনাময় পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে।

খুলনার বিশিষ্ট ভাস্কর শেখ সাদী ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিল্পী শশীভূষণ পালের নিজের জমিতে প্রতিষ্ঠিত ওই ভবনটি রক্ষা করে বাকি জায়গায় নতুন অবকাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। ’



সাতদিনের সেরা