kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

হালুয়াঘাটে দুই গারো শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

অভিযুক্তরা মাদক যৌন হয়রানিতে বেপরোয়া ছিলেন

প্রধান অভিযুক্তকে জেলহাজতে পাঠালেন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে দুই গারো শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক কারবার, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধে বেপরোয়া ছিলেন। প্রধান অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেন রিয়াদের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের এই দলটি গত কয়েক বছরে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিল। স্কুলগামী মেয়েদের পথ আটকানো, জোর করে মোবাইল ফোন নম্বর নেওয়া, রাতে গৃহবধূদের ধর্ষণচেষ্টা ইত্যাদি অপকর্ম এঁদের কাছে স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ঘটনাস্থল গাজীরভিটা ইউনিয়ন দেশের সীমান্তবর্তী ও পিছিয়ে থাকা এলাকা এবং স্থানীয়রা নিরীহ হওয়ায় বখাটেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না।

বিজ্ঞাপন

দলটির কেউ অপকর্ম করতে গিয়ে ধরা খেলে তাঁদের কখনো কখনো সালিস কিংবা ধমক দিয়েই দায় সেরেছেন স্থানীয় মুরব্বিরা। এবারও এই গ্রুপটির হাতে দুই গারো শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হলেও ঘটনার দুই দিন পর্যন্ত আক্রান্তরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

হালুয়াঘাট থানার ওসি শাহীনুজ্জামান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই গারো শিক্ষার্থীকে ধর্ষণে প্রধান অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেন রিয়াদকে (২২) গত শনিবার ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গতকাল রবিবার তাঁকে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।

এর আগে শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ ও গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার পাঁচ অভিযুক্ত জেলহাজতে আছেন। তাঁরা হলেন হালুয়াঘাটের কাতলমারী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শরীফ মিয়া (২০), কাটাবাড়ী গ্রামের আ. মতিনের ছেলে মিজানুর রহমান (২২), কচুয়াকুড়া গ্রামের আ. হামিদের ছেলে মিয়া হোসেন (২০), কাটাবাড়ী গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে আব্দুল হামিদ (১৯) ও কচুয়াকুড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে রুকন মিয়া (২১)। ময়মনসিংহ জেলা ডিবির ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, এঁরা সবাই অপরাধ স্বীকার করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, গাজীরভিটা ইউনিয়নের কচুয়াকুড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানের ছেলে সোলায়মান হোসেন রিয়াদ অভিযুক্তদের মূল নেতা। তাঁর সঙ্গী হন কাতলমারীর বখাটে শরিফ মিয়া (২০)। এঁরা ১০ থেকে ১২ জন বন্ধু সীমান্তবর্তী গারো অধ্যুষিত এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রাখতেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, ধর্ষণচেষ্টা, মাদক সেবন ও পাচার তাঁদের কাছে নতুন ঘটনা নয়। গত বছরের ৮ অক্টোবর ভারত থেকে মাদক এনে দেশে বিক্রির সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন রিয়াদ। ওই দিনই তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশ মামলা করে। তবে জামিনে এসে আরো বেপরোয়া হন রিয়াদ।

স্থানীয় শান্ত দিও বলেন, ‘বছরখানেক আগে রাতের বেলায় আমার পরিচিত দুজন নারী প্রকৃতির ডাকে বাড়ির পাশে যান। এ সময় রিয়াদ ও তাঁর বন্ধুরা তাঁদের ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

 



সাতদিনের সেরা