kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

পিরোজপুরের পাঁচ ইউনিয়ন

নেতাদের দ্বন্দ্বে দ্বিধায় কর্মীরা

♦ সমন্বয়ের অভাবে নৌকা প্রার্থীদের ভরাডুবির শঙ্কা
♦ আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ

পিরোজপুর সংবাদদাতা   

৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পিরোজপুরের দুই উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাঁদের অনেকেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহ প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন। ঊর্ধ্বতন নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে নির্বাচনের আগের দিনেও এক হতে পারেননি তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

ফলে নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীদের ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন অনেকেই। আর নির্বাচন নিয়ে নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের তৃৃণমূল নেতাকর্মীরা।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানিসাফা, বড় মাছুয়া, টিকিকাটা, দাউদখালী ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নে আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন। এতে নৌকার প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। আর এসব নিয়ে মাঠ পর্যায়ের তৃণমূল ত্যাগী নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ধানীসাফা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুন অর রশীদ তালুকদার বলেন, ‘দলের একটি চিহ্নিত মহল তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। ’ দাউদখালী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ফজলুল হক খান রাহাত বলেন, ‘দলের একটা অংশ আমার বিরুদ্ধে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। ’ টিকিকাটা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রিপন জমাদ্দার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কিছু নেতা স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান মহিউদ্দিন আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সুফি জহির উদ্দিনের পক্ষে কাজ করছেন। ’

বড়মাছুয়া ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী আয়েশা আক্তার মনি বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির হোসেন হাওলাদার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। আমি যাতে বিজয়ী না হতে পারি, সে জন্য নানা ধরনের কুৎসা রটাচ্ছেন। ’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর বলেন, ‘দলের কিছুু নেতা জামায়াত-বিএনপির সমর্থক চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন, এটি দুঃখজনক। ’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস বলেন, ‘দলের মধ্যে সমন্ব্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর সমন্ব্বয় করে নির্বাচনী প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক প্রার্থী সমন্ব্বয় না করায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ’

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, ‘উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪৫ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৭ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ’



সাতদিনের সেরা