kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

চৌগাছায় পরিবেশ দূষণ

১৭ ভাটার ১৬টিই ছাড়পত্রহীন

♦ ভাটার কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ
♦ মাটি বহনকারী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে ভাঙছে সড়ক

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৭ ভাটার ১৬টিই ছাড়পত্রহীন

যশোরের চৌগাছার রাজাপুর গ্রামে জনতা ব্রিকসে পোড়ানো হচ্ছে গাছের গুঁড়ি। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের চৌগাছায় গড়ে ওঠা ১৭টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টিরই পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। বেশির ভাগ ভাটা জনসাধারণের কাছে গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। ভাটার কালো ধোঁয়া নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। মাটি ও ইট বহনকারী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে ভাঙছে বিভিন্ন সড়ক।

বিজ্ঞাপন

ফসলি জমির মাটি দেদার চলে যাচ্ছে ভাটায়। ভাটাসংলগ্ন জমিতে চিমনির নির্গত ছাইভস্মে নষ্ট হচ্ছে কৃষি ফসল। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ফসলের পরাগায়ণ। ভাটা মালিকরা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন না মেনেই এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভাটা মালিকরা ঘুষ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেন। ঘুষ না দিলেই চলে অভিযানের নামে হয়রানি।

চৌগাছা উপজেলায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস। এ উপজেলায় ১৭টি ইটভাটা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে একটি উপজেলায় এতগুলো ভাটা স্থাপন করা হলেও ইটের দাম আকাশচুম্বী। ভাটা মালিকরা ইট পোড়ানো জ্বালানির দাম বাড়ার অজুহাতে এক ট্রাক ইট (দুই হাজার ইট) ২০ থেকে সাড়ে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। ইটের মূল্য বাড়ার কারণে মানুষ যত না ক্ষতিগ্রস্ত তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যত্রতত্র ভাটা গড়ে ওঠার কারণে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী রাজাপুর গ্রামে জনতা ব্রিকসে প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটা ঘিরে রয়েছে কাঠের স্তূপ। স্তূপে মেহগনি, কড়ই, খেজুরগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের খণ্ডিত অংশ আছে। ভাটার চিমনি দিয়ে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া। ভাটায় প্রবেশ করতেই এক কর্মচারী জানালেন সাবেক সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজের ভাটা এটি। ভাটাটি তাঁর ভাই মো. তাহের দেখাশোনা করেন। ভাটার বিষয়ে তাহেরের সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, ‘কয়লা পাওয়া যাচ্ছে না বলেই মরাটরা গাছ দিয়ে ভাটা চালাচ্ছি। ’ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ছাড়পত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি আছে বলে দাবি করলেও কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। এই ভাটার চারপাশে রয়েছে ফসলি জমি।

চৌগাছা-যশোর সড়কে চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের উত্তরে চার-পাঁচ বছর আগে তানজিলা অটো ব্রিকস নামের একটি ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। এই ভাটা খাল বিল, নদীনালা এমনকি ফসলি জমির মাটি গিলে খাচ্ছে। একাধিক ট্রাক ও ট্রলি দিয়ে দিনরাত মাটি বহন করা হচ্ছে। বেপরোয়া গতির ট্রাক সড়কে চলাচলকারী মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার সড়কের পাশে বসবাসকারীরা। অনেক বাধার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি এলাকাবাসী।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ইট প্রস্তুত ও ভাটা নির্মাণ আইনে বলা রয়েছে, যেখানে ভাটা নির্মাণ করা হবে তার এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি থাকবে না। এমনকি ৫০০ মানুষ বসবাসকারী এলাকায়ও ভাটা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু চৌগাছায় যেন এই আইনের কোনোটাই মানা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাটা মালিক বলেন, ‘উপজেলার ১৭টি ইটভাটায়ই পরিবেশ আইনের ছাড়পত্র নেই। প্রতিবছর কর্তৃপক্ষকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে হয় ভাটা মালিকদের। ঘুষ না দিলেই চলে অভিযান আর অপমানমূলক কথাবার্তা। ’

তানজিলা ব্রিকসের মালিক মনিরুজ্জামান শিমুলের সঙ্গে কথা বলতে ভাটায় গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ইটভাটার একজন কর্মচারী জানান, ভাটার মালিক ঢাকায় থাকেন। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব ভাটা মানুষের ক্ষতি করছে, সেগুলোর একটি তালিকা করা হবে। তারপর তদন্ত সাপেক্ষে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা