kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

বাণিজ্য মেলায় চালাতে কোটি টাকার জাল নোট, গ্রেপ্তার ৩

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকার জাল নোট এবং জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কয়েক বছর আগে হোটেলে বয়ের কাজ করতেন ছগির হোসেন। পরে রিকশা ভ্যানে ফেরি করে পোশাক বিক্রি শুরু করেন। সেখান থেকে একসময় বড় ব্যবসায়ী বনে যান। সে ব্যবসার নেপথ্যে ছিল জাল নোট তৈরি ও বাজারজাত করার কারবার।

বিজ্ঞাপন

জাল নোটের কারখানার মালিক তিনি।

সোমবার রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেলিনা আক্তার পাখি ও রুহুল আমিন নামের আরো দুই কারবারিকে। তাঁদের কাছ থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকার জাল নোট এবং এসব নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি ঢাকা ও বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট তৈরি করে কম দামে বিক্রি করে আসছে। এই চক্রের সঙ্গে ১৫-২০ জন জড়িত। তারা টিস্যু পেপারের সহায়তায় জাল নোট ছাপায়। এবারের বাণিজ্য মেলায় চালানোর জন্য কোটি টাকার জাল নোট তৈরি করেছিল।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৮ নভেম্বর র‌্যাব-৪-এর একটি দল মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জাল নোটসহ তৈরি ও বিক্রি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির মূল হোতা ও সহযোগীদের সম্পর্কে জানতে পারে র‌্যাব এবং অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা ছগির হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় ।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ছগির হোসেন ১৯৮৭ সালে বরগুনা থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে একটি হোটেলে বয়ের কাজ নেন। পরে রিকশা ভ্যানে ফেরি করে গার্মেন্ট পণ্য বিক্রি করতেন তিনি। গার্মেন্ট পণ্য বিক্রির সময় ছগিরের সঙ্গে ইদ্রিস নামের একজনের পরিচয় হয়। ইদ্রিসের মাধ্যমে জাল নোট তৈরির হাতেখড়ি হয় ছগিরের।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, ছগির জাল নোট বিক্রি এবং পরে তৈরির বিষয়টি রপ্ত করেন। ২০১৭ সালে জাল নোটসহ ইদ্রিস ও ছগির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। এক বছর জেল খেটে ২০১৮ সাল হতে আবার জাল নোট তৈরি শুরু করেন তিনি। তাঁর তৈরি জাল নোটগুলো সহাযোগী রুহুল আমিন ও সেলিনাসহ সাত-আটজন বিক্রি করে। ছগির নিজেই পুরান ঢাকা থেকে জাল নোট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতেন। তিনি নিজেই জাল নোট তৈরি করতেন। জাল নোট তৈরির পর সহযোগীদের সরবরাহ করতেন। প্রতি এক লাখ জাল নোট ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সহযোগীদের কাছে বিক্রি করতেন সগির।



সাতদিনের সেরা