kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

মালিক-কর্মচারীদের সবাই মাদকাসক্ত

নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে ‘টর্চার সেল’

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গাজীপুর শহরের একটি মাদকাসক্ত নিরাময়কেন্দ্র থেকে বন্দি অবস্থায় ২৮ জনকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। চিকিৎসার নামে তাদের বন্দি করে রাখা হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর অভিযান শেষে শহরের ভুরুলিয়া এলাকার ‘ভাওয়াল মাদকাসক্ত নিরাময় পুনর্বাসনকেন্দ্র’ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই নিরাময়কেন্দ্রের মালিক ফিরোজা নাজনীন বাঁধনসহ প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কর্মচারীকে আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সন্ধ্যায় অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নিরাময়কেন্দ্রে ভোর থেকে অভিযান চালানো হয়। নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে এটি একটি বন্দি ও নির্যাতনশালা। ২০ জনের অনুমোদন থাকলেও ভর্তি রাখা হতো অনেক বেশি মাদকাসক্তকে। বেড ছাড়াই চার-পাঁচটি কক্ষের মেঝেতে রাখা হতো গাদাগাদি করে। ঠিকমতো দেওয়া হতো না খাবার। করানো হতো রান্নাবান্না-ধোয়ামোছার কাজ। চিকিৎসার নামে চালানো হতো শারীরিক-মানসিক ও যৌন নির্যাতন। নির্যাতনের জন্য আলাদা কক্ষ পাওয়া গেছে। সেখানে নির্যাতনের সামগ্রীও পাওয়া গেছে। ভর্তি রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা থাকলেও করা হতো না। নেই কোনো ডাক্তার। কয়েকজন মাদকসেবীকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হতো। প্রতিষ্ঠানের মালিকও মাদকাসক্ত। অভিযানের সময় নিরাময়কেন্দ্রে ৪২০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। অথচ এখানে মাদক থাকার কথা নয়। কেন্দ্রে আসার পর একজন মাদকাসক্তকে ২৮ দিনের বেশি রাখার নিয়ম নেই। অথচ কেউ কেউ এক, দুই ও তিন বছর ধরে এখানে আছে। নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে এটি চলে আসছিল। এখন উদ্ধারকৃতদের স্বজনদের কাছে বা অন্য নিরাময়কেন্দ্রে পাঠানো হবে। তাদের মধ্যে সাতজন নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



সাতদিনের সেরা