kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

নববর্ষ উদযাপন

বাজির শব্দে কাঁপছিল শিশুটি, পরদিন মৃত্যু

জন্মগতভাবে হৃদযন্ত্রে ছিদ্র ছিল উমায়েরের। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নিয়মিত চিকিৎসা করানো হচ্ছিল শিশুটিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজির শব্দে কাঁপছিল শিশুটি, পরদিন মৃত্যু

‘কি বিকট শব্দে আতশবাজি। আমার ছোট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

খুবই আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময়টা পার করছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের বুঝ দান করুক। দোয়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ’

ইউসুফ রায়হান নামের এক বাবা ফেসবুকে এমনই পোস্ট দিয়েছিলেন খ্রিস্টীয় নববর্ষের আগমনী রাতে। সকাল হতেই তিনি ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে যান। চার মাস বয়সী শিশুটি নতুন বছরের বিকেলে সব শব্দদূষণ ও আনন্দ উদযাপনের বাইরে চলে যায়।

ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা ইউসুফ একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘তোর ছোট্ট হাতটা দিয়ে আমার আঙুলখানি কি আর ধরবি নারে বাবা?’

ছবিতে দেখা যায়, শিশুটির হাতে ক্যানুলা করা। ছোট্ট সেই হাতে বাবার আঙুল ধরে রেখেছে শিশুটি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই সমালোচনা করছে বেপরোয়াভাবে বর্ষবরণের। ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় মুহুর্মুহু আতশবাজি ফুটিয়ে। যদিও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। অনেক বাসায়ও রয়েছেন বয়স্ক নারী-পুরুষ, রোগী; যাঁদের অনেকের জন্যই শব্দদূষণ নিরাপদ নয়। সেদিন মধ্যরাতে যখন আতশবাজির উচ্চকিত শব্দ, ফানুসের আলোর ওড়াউড়ি, তখনই উৎকণ্ঠিত ইউসুফ রায়হান ফেসবুকে তাঁর সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।

জানা গেছে, জন্মগতভাবে হৃদযন্ত্রে ছিদ্র ছিল উমায়েরের। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নিয়মিত চিকিৎসা করানো হচ্ছিল তাকে। গত ১ জানুয়ারি শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি উমায়েরের।

এবারের ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ উদযাপন নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। বর্ষবরণের ফানুসে রাজধানীর বেশ কিছু জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। মাতুয়াইলে আস্ত ভবনই পুড়ে যায়।

ছেলের এভাবে মৃত্যু এবং ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া নিয়ে শোকার্ত বাবা ইউসুফ রায়হানের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠের কথা হয়। তিনি বাস করেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ে। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। ঢাকায় ব্যবসা করেন। তবে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। ইউসুফ বলেন, ‘আমি আমার কষ্টের কথাগুলো পরিচিত লোকজনকে জানানোর জন্যই ফেসবুকে লিখেছিলাম।

থার্টিফার্স্ট নাইটে এ ধরনের উৎসব আগেও হয়েছে। কিন্তু এবার বেশিই হয়ে গেছে। বাজি-পটকার শব্দ আমাদের বাচ্চাটাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ওর হার্টের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই চলে

যেতে হলো ওকে। মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে রেখে এসেছি। ’



সাতদিনের সেরা