kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

ট্রেনে জরিমানা আদায়ের পর টাকা আত্মসাৎ

পশ্চিমাঞ্চলের ৫৪টি আন্ত নগর ট্রেনেই কমবেশি এই অবস্থা বিরাজ করছে

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিটহীন যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের পর আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রসিদ ছাড়া জরিমানা আদায় করতে দেখা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, শুধু পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনই নয়, ঢাকা-রাজশাহীর সব কটি ট্রেনে একই কায়দায় টিকিটহীন যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করে বেশির ভাগই পকেটে পুরছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পশ্চিমাঞ্চলের ৫৪টি আন্ত নগর ট্রেনেই কমবেশি এই অবস্থা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

২৯ ডিসেম্বর রাত ১১টায় ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা ছিল রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটির। প্রায় ১৫ মিনিট দেরিতে ছাড়ে ট্রেনটি। বিমানবন্দর স্টেশনে যাওয়ার আগেই ট্রেনটির ১০টি বগির সবই প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিমানবন্দর আসার পর সিট পরিপূর্ণ হয়ে যায়। বগিগুলোতে পা ফেলার জায়গা ছিল না। বিশেষ করে ট্রেনের বগিগুলোর মাঝখানে অবস্থিত শৌচাগারের সামনে দরজার মুখ বরাবর গায়ে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদের, যাদের বেশির ভাগেরই টিকিট ছিল না। আবার দু-একজন স্ট্যান্ডিং (দাঁড়িয়ে থাকা) যাত্রীও ছিল। এমন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে অনেকটা ঠেলাঠেলি করে পাঁচ-ছয়জন টিটিই (ট্রেনের টিকিট পর্যবেক্ষক), অ্যাটেনডেন্ট ও গার্ড সদস্যরা দলবেঁধে যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা শুরু করেন।

ওই ট্রেনের ‘ঝ’ বগিতে ১২-১৫ নম্বর সিটে বসে ছিলেন দুজন নারী, তাঁদের দুটি শিশু সন্তান, একজন বৃদ্ধ ও একজন ৪০-৪৫ বছর বয়সী ব্যক্তি। এ সময় টিকিট সংগ্রহকারীরা তাঁদের কাছে টিকিট চাইলে এক নারী চারটি টিকিট বের করে দেন। টিকিট দেখেই টিটিই কামরুল ইসলাম তাঁকে বলেন, ‘আরো দুটি টিকিট দেন। ’ ওই নারী তখন বলেন, ‘চারজনের তো টিকিট দিলাম। ’ প্রতিউত্তরে টিটিই বলেন, ‘বসে আছেন ছয়জন। তাই টিকিট দেবেন ছয়টি। ’ এবার নারী বলেন, ‘দুজন শিশু মিলে ছয়জন। আমরা চার সিটেই বসে আছি। তাহলে ছয়জনের টিকিট দিব কেন?’ তখন টিটিই বলেন, ‘তাহলে বাকি দুজন নেমে যান। ট্রেনে দুই বছরের বেশি বয়স্ক গেলেই টিকিট লাগবে। ’ এবার নারীর সোজা উত্তর, ‘স্যার আমার জানা নেই। মাফ করে দেন। ’ টিটিই বললেন, মাফ করার সুযোগ নেই। দুটি টিকিট কাটেন তাহলে আর সমস্যা হবে না। ওই নারী বলেন, ‘দেন তাহলে দুটি টিকিট। ’ টিটিই বললেন, ‘ডাবল জরিমানাসহ ১৩৬০ টাকা দেন। ’ তখন ওই নারী বললেন, ‘জরিমানা দেব কেন? যা দাম তাই নেন। ’ এক পর্যায়ে ওই নারীর কাছ থেকে ৭০০ টাকা নিয়ে নিজের নোটবুকের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন টিটিই কামরুল। সব শেষে ওই নারী দুটি টিকিট চাইলে কামরুল বলেন, ‘টিকিট লাগবে না আর। আমি দেখবোনি। ’

ওই নারীর সঙ্গে টিকিট নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার সূত্র ধরে এবার এই প্রতিবেদক অনুসরণ করতে থাকেন টিকিট পর্যবেক্ষক দলের সদস্যদের। এরপর পুরো ট্রেনে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় একই কায়দায় টাকা আদায় করা হয়।



সাতদিনের সেরা