kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

প্রতিষ্ঠার পর সিলেট বোর্ডের সেরা ফল

সিলেট অফিস   

৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিষ্ঠার পর সিলেট বোর্ডের সেরা ফল

এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে গত বছর পিছিয়ে থাকা সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবার হয়েছে দেশের দ্বিতীয় সেরা। এবার বোর্ডে পাসের হার ৯৬.৭৮ শতাংশ। সিলেট শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর এটিই সর্বোচ্চ পাসের হার। তবে জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে বোর্ডগুলোর মধ্যে সবার নিচে সিলেট।

বিজ্ঞাপন

এবার বোর্ডের চার হাজার ৮৩৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারে এবার ছেলেদের টপকে গেছে মেয়েরা। পাশাপাশি জিপিএ ৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে গত বছরের ধারা বজায় রেখে এবারও এগিয়ে মেয়েরা। সিলেট বিভাগে পাসের হারে বিজ্ঞান বিভাগকে (পাসের হার ৯৫.২৯) পেছনে ফেলে সবচেয়ে এগিয়ে মানবিক বিভাগ (৯৭.২৬ শতাংশ)। সবার পেছনে রয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ (পাসের হার ৯৫.৬৩)। শতভাগ পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮৬টি। গত বছর যা ছিল ৪৩টি। সিলেট বোর্ডের চার জেলার মধ্যে পাসের হারে পিছিয়ে থাকা সুনামগঞ্জ এবার শীর্ষে উঠে চমক দেখিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। সিলেট বোর্ডের ফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এক লাখ ১৯ হাজার ৫৫৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ১৫ হাজার ৭০০ জন। ১৯৯৯ সালে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর এই বোর্ডের অধীন ২০০১ সালে প্রথমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে ২০১২ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯১.৭৮ শতাংশ, যা এবারের (৯৬.৭৮ শতাংশ) আগে পাসের সর্বোচ্চ হার। আর গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার বেড়েছে ১৭.৯৯ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৭৮.৭৯ শতাংশ।

এবার বোর্ডে ৫৩ হাজার ৩৩২ জন ছেলে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল; উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৩৮৬ জন। পাসের হার ৯৬.৩৫ শতাংশ। এবার ৬৬ হাজার ২২১ জন মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল; পাস করেছে ৬৪ হাজার ৩১৪ জন। পাসের হার ৯৭.১২ শতাংশ। গত বছর পাসের হারে ছেলেরা এগিয়ে ছিল। পাসের হার ছেলেদের ৭৯.২৩ এবং মেয়েদের ৭৮.৪৬ শতাংশ ছিল।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার চার হাজার ৮৩৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৮০৬ জন মেয়ে এবং দুই হাজার ২৮ জন ছেলে। গত বছর দুই হাজার ৮১ জন ছেলে ও দুই হাজার ১৮২ জন মেয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। এ বছর জিপিএ ৫ পাওয়াদের সংখ্যাও বেড়েছে।

জেলাভিত্তিক ফলে দেখা গেছে, সিলেট বিভাগের মধ্যে পাসের হারে এবার সবচেয়ে এগিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা। সেখানে পাসের হার ৯৭.৫৩ শতাংশ। এরপর পাসের হার যথাক্রমে সিলেট জেলায় ৯৭.৪২, মৌলভীবাজারে ৯৬.৭৯ এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৯৬.৫৫ শতাংশ।

এ বছর সিলেট জেলার ৪৩ হাজার ৫৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪১ হাজার ৮৩২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় ২৬ হাজার ৪৯ জন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৫ হাজার ৩৪৩ জন। মৌলভীবাজার জেলায় ২৬ হাজার ৩৯৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৫ হাজার ৪০৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলায় ২৪ হাজার ৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ২৩ হাজার ১১৯ জন পাস করেছে।

জিপিএ ৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে সবার ওপরে সিলেট জেলা। এখানে জিপিএ ৫ পেয়েছে দুই হাজার ২৯৮ জন। এরপর যথাক্রমে মৌলভীবাজার জেলায় এক হাজার ৪০ জন, হবিগঞ্জে ৮৬৯ জন এবং সুনামগঞ্জে ৬২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে।

এবারের ফলে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. রমা বিজয় সরকার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিরতিতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে বসেছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করলে তাদের ফল খুব ভালো হয়েছে। এবার তারা আনন্দচিত্তে একাদশ শ্রেণিতে পড়া শুরু করবে। ’ বোর্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভালো ফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই আমাদের জন্য আনন্দের। ’



সাতদিনের সেরা