kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

অনলাইনে মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমার ব্যবস্থার আবেদন

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ১১ ইউপিতে আ. লীগের ছাড়া অন্য কেউ মনোনয়ন ফরম কিনতে পারছেন না

কুমিল্লা সংবাদদাতা   

৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ষষ্ঠ  ধাপের ইউপি নির্বাচনে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ১১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। যাঁরা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তাঁরা দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের বাধার মুখে অনলাইনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের ব্যবস্থা করারও দাবি করেছেন প্রার্থীরা। তাঁরা বলেছেন, এ রকম ব্যবস্থা করা না হলে মনোহরগঞ্জও পাশের লাকসাম উপজেলার পথে হাঁটবে।   

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের কুমিল্লা-৯ আসন গঠিত। ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে লাকসাম উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটির কোথাও ভোট গ্রহণ করার প্রয়োজন হয়নি। সেখানে সব প্রার্থীই বিনা ভোটে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন।

এর আগে লাকসাম পৌরসভা, লাকসাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও ভোটের প্রয়োজন হয়নি। সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনের জন্য গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল দেওয়া হয়। ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। ১৩ জানুয়ারি মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং নির্বাচন হবে ৩১ জানুয়ারি।

মনোহরগঞ্জ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে না পেরে অন্তত ১০ জন গত বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁদের মধ্যে আটজন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা। তাঁরা বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী। এর মধ্যে দুজন বর্তমান চেয়াম্যানও রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে তাঁরা বিকল্প স্থান হিসেবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। কিন্তু এতে তাঁরা কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ঝলম উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ‘গত ২০ ডিসেম্বর ৫০০ টাকার ট্রেজারি চালান জমা দিয়েও ফরম সংগ্রহ করতে পারিনি। সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গেলে দুর্বৃত্তরা আমাকে বাধা দেয়। তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। সন্ত্রাসীদের বাধার কারণে আমি মনোনয়ন ফরম কিনতে পারছি না। ’

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, সংসদ নির্বাচনেই কেবল অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ আছে, স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে এ সুযোগ রাখা হয়নি।



সাতদিনের সেরা